শুক্রবার, ২৮-জুলাই ২০১৭, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন
  • প্রশাসন
  • »
  • সাবেক সচিব ড. মুহম্মদ মাহবুবুর রহমানের ইন্তেকাল
| প্রকাশ : ১৭ জুলাই, ২০১৭ ০৬:৩৮ অপরাহ্ন

সাবেক সচিব ড. মুহম্মদ মাহবুবুর রহমানের ইন্তেকাল

শীর্ষনিউজ, ঢাকা: সরকারের সাবেক সচিব ও ১৯৭৯ ব্যাচের সিভিল সার্ভিস প্রশাসন সার্ভিসের সদস্য ড. মুহম্মদ মাহবুবুর রহমান গতকাল রোববার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাইহি রাজেউন)।
ড. মাহবুব দীর্ঘদিন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি আন্তর্জাতিক পরামর্শক হিসেবে ইউএনডিপি, মালদ্বীপে বেশ কয়েক বছর কর্মরত ছিলেন।
তিনি কর্মজীবনে নিষ্ঠাবান ও উন্নত নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড. মাহবুব সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব উন্নয়নে নিবেদিতভাবে কাজ করে গেছেন। শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও মার্স্টাস ডিগ্রি অর্জনের মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস) হতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ইংল্যান্ড হতে উন্নয়ন প্রশাসনে প্রফেশনাল ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। তাঁর পিএইচডি অভিসন্দর্ভ পরবর্তীতে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) হতে Bureaucratic response to administrative decentralization: a study of Bangladesh civil serviceশীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত হয় এবং তা বাংলাদেশের লোকপ্রশাসন গবেষণায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি প্রশিক্ষণের উপর Essays on Capacity Building  শীর্ষক একাডেমিক বই লিখেছেন এবং তা ইউপিএল হতে প্রকাশিত হয়েছে।
বিভিন্ন গবেষণা ও প্রফেশনাল প্রতিষ্ঠানের সাথেও জড়িত ছিলেন ড.মাহবুব। এসব বিষয়ে বিভিন্ন জার্নালে তাঁর গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনি অ্যাসোসিয়েশন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান অ্যালামনি অ্যাসোসিয়েশন এর সাথে তিনি সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
ড. মাহবুব সরকারি চাকরি হতে অবসরের পরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের সাথে তিনি নিজেকে সম্পৃক করেন। সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম) এর একজন উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। দেশের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান ‘রহিমআফরোজ’ গ্রুপের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই কন্যা ও এক পুত্রসন্তান এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা একজন উচ্চ পর্যায়ের ইসলামী চিন্তাবিদ ছিলেন। নোয়াখালীতে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শীর্ষ নিউজ/এনএমএম