শনিবার, ২৫-নভেম্বর ২০১৭, ০১:৩১ অপরাহ্ন

২০০১ সালের সেদিনের কথা মনে পড়ে গেলো

sheershanews24.com

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর, ২০১৭ ১১:১৪ অপরাহ্ন

শামসুল আলম: আজ ২৮ অক্টোবর, পল্টন হত্যাকান্ডের বার্ষিকী। আজই সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সড়কপথে রওয়ানা হলেন কক্সবাজারে- রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে।

এ উপলক্ষে আজ ফেনীতে অঘোষিত হরতাল গেলো! তাও সরকারী দলের হরতাল!! পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগ ফেনী শহরের চারদিকের সকল রাস্তা কেটে দিয়েছে। গাছ কেটে গাছের গুড়ি দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে শহরে ঢোকার সকল রাস্তা। এর উদ্দেশ্য ছিলো- খালেদা জিয়াকে সম্বর্ধনা জানাতে লোকজনকে যাতে আসতে না দেয়া। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ফেনী-নোয়াখালী রাস্তাও তারা দখলে নিয়েছিল।
পথে পথে নানা বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে খালেদা জিয়া ফেনীতে উপনীত হলে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়ি বহরে দফায় দফায় হামলা চালায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতা-কর্মীরা। এতে প্রায় শ’খানেক গাড়ি ভাঙচুর করে। আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফেনী শহরের পাঁচ কিলোমিটার আগে মোহাম্মদ আলী বাজার এলাকায় বড় একটি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে একাত্তর টিভি, বৈশাখী, ডিবিসি, চ্যানেল আই, প্রথম আলো, ডেইলি স্টারের গাড়ি, খালেদা জিয়ার মিডিয়া উইংয়ের গাড়ি ভাংচুরের শিকার হয়। বহরের পেছনে থাকা প্রায় সব গাড়ি বেছে বেছে ভাঙা হয়। ফেনী শহরের মহিপালেও ভাঙচুর ও হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জে, ভবেরচর ও দাউদকান্দিতে হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। আক্রমণকারীরা ছাত্রলীগ, যুবলীগের বলে তাৎক্ষণিকভাবে জানা গেছে। সবার হাতে লাঠিসোটা ছিল, কয়েকজনের হাতে ছিল অস্ত্র। বিকেল সোয়া ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভাঙচুর চলছিল। সর্বশেষে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে ফের হামলা হয়।

এ ধরনের হামলার ইতিহাস আওয়ামীলীগের জন্য নতুন কিছু নয়। বরং সব সময়ই তারা এ কাজ করে জাতির সামনে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করে তৃপ্ত থাকে। তবে তা জনগণ কিভাবে নেয়, সেখবর তাদের নেই।

নিকট অতীতের একটি ঘটনা আমি স্মরণ করাতে চাই। ২০০১ সালের জুন মাসে আওয়ামী লীগ সরকার শেষ হওয়ার মাত্র এক মাস আগের ঘটনা। ১৭ জুন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সড়কপথে পিরোজপুর সফরে রওয়ানা হন। এই সফরে হামলা হতে পারে, আমাদের কাছে এমন আগাম খবর ছিল। ঢাকা থেকে বের হওয়ার পরে প্রথমে কেরাণীগঞ্জে গাড়ি বহরে হামলা করে সরকারী দলের কর্মীরা, এতে বহরে থাকা পুলিশের গাড়ি অচল হয়ে পড়ে। নিরাপত্তা ছাড়াই মাওয়াঘাটে ফেরিতে চড়ে চরজানাজাত ফেরীঘাটে গেলে দেখা যায় পল্টুন নেই, বিআইডব্লিউটিসির যোগসাজশে আওয়ামী লীগের লোকজন পল্টুন খুলে সরিয়ে নিয়ে যায়। পল্টুন না থাকায় চরজানাজাত ঘাটে নামতে পারেনি খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। ফলে বাধ্য হয়ে ঐ ফেরি নিয়ে শরীয়তপুর হয়ে মাদারীপুর যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সে রাস্তায় কাজীরটেক ফেরীঘাটে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওৎ পেতে ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এপিএস ও আত্মীয় বাহাউদ্দিন নাসিমের ছোটভাই ইয়াদ আলী। ইয়াদ আলী বাহিনী খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ করতে থাকে। বহরে থাকা নিরাপত্তা রক্ষীরাও ফিরতি গুলি করে। ফলে আক্রমনকারীরা আর আগাতে পারেনি। সে অবস্থায় নেত্রীকে নিয়ে গাড়ি বহর ঢাকায় ফেরত আসে। ঢাকা থেকে আরিচা দিয়ে আবার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু অন্য রাস্তা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আটকে দেয়ার ফলে বিকল্প বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে সেখানেও গুলিবর্ষণ করে। বিরোধী দলীয় নেত্রীর স্টাফ অফিসার হিসাবে ঐ ঘটনার সময় আমি সফর ও নিরাপত্তা কো-অর্ডিনেশনের দায়িত্বে ছিলাম।

এই হচ্ছে আওয়ামী লীগ, যারা গুন্ডামি, অস্ত্র ও গুলিবর্ষণ করে জনগণকে থামাতে চেষ্টা করে। তবে এর সাড়ে তিন মাস পরে আসে পয়লা অক্টোবর। শেষে জনগণ বুঝিয়ে দেয় তাদের ক্ষমতা।