বৃহস্পতিবার, ১৪-ডিসেম্বর ২০১৭, ০৪:১৮ অপরাহ্ন

রাজনীতি ও ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের স্বীকৃতি

sheershanews24.com

প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ০৭:৫২ অপরাহ্ন

কাজী শওকত হোসেন: ২০ দলীয় জোটের নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ৩ মাস লন্ডনে অবস্থান করে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে এসে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন। তিনি লন্ডন যাওয়ার সময় আদালতকে হাজিরায় অনুপস্থিত থাকার কথা অবগত না করার ফলে তার বিরুদ্ধে এই দুই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। লন্ডন যাওয়ার আগেই খালেদা জিয়ার আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। তিনি ও তার দলের নেতারা এবং তার আইনজীবীরা হয়তো ভেবেছিলেন আদালত যদি তাকে লন্ডন যাওয়ার অনুমতি প্রদান না করে তাহলে তার চিকিৎসা, পরিবারের সাথে মিলিত হওয়ার এবং বিদেশী রাজনৈতিক বন্ধুদের সাথে দেখা- সাক্ষাত, শলাপরামর্শ করা এবং বর্তমান ও আগামী দিনের রাজনীতি, মামলা, নির্বাচন, আন্দোলন, দল গোছানো, নেতৃত্ব ঠিক করার করণীয় বিষয়ে তারেক জিয়ার সাথে আলোচনা করা সম্ভব হবে না। যা দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। তার শারীরিক সমস্যার কারণে চিকিৎসা গ্রহণ প্রয়োজন ছিল। তিনি তার সময়মতো সবগুলি কাজই সম্পন্ন করে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এলে তিনি তার সাথে দলীয় নেতাসহ একান্ত বৈঠকও করেছেন। অনেক বিষয়ে আলাপ করলেও খুব একটা সুবিধা হয়েছে কিনা সন্দেহ আছে।
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার প্রথম সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন তখন বেগম খালেদা জিয়া নিজের দেওয়া হরতালের অজুহাত দেখিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ না করে যে ভুল করেছিলেন সেটি কাটিয়ে উঠার জন্য সুষমা স্বরাজের সাথে সাক্ষাৎ করতে খুবই উদগ্রীব ছিলেন। অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি করেন নি। এতে তার ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও উজ্জ্বল হয়েছে। তিনি কয়েকবার তারিখ পরিবর্তন করে দেশে ফিরে আসেন। বিমান বন্দর থেকে গুলশান বাসভবন পর্যন্ত তার দলের নেতাকর্মীরা তাকে বীরোচিত সম্মান দেখেয়িছেন। দীর্ঘদিন পরে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী একত্রিত হয়ে উজ্জীবিত হয়েছে। সরকারও বাধার সৃষ্টি করেনি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছে। দেশবাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ায়।
খালেদা জিয়া আদালতে জামিন ও শুনানিতে হাজির হয়ে দীর্ঘসময় মামলায় অভিযোগের আত্মপক্ষ সমর্থনের বিষয়ে খুব অল্প কথা বলেই প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক বক্তব্য রাখা কি সমীচিন হয়েছে? রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখতে ও ত্রাণ বিতরণের জন্য কক্স্রবাজার, টেকনাফ, উখিয়ায় গিয়েছিলেন এবং যাওয়ার পথে রাস্তায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে থাকা সাংবাদিকদের গাড়িতে হামলা করা হয়েছে, গাড়ি ভাংচুর হয়েছে, কয়েকজন আহত হয়েছে। খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ত্রাণ বিতরণ শেষে ফিরে আসার সময় আবারো বাসে আগুন ও গাড়ি ভাংচুর একটি পরিকল্পিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করা। ষড়যন্ত্রমুলক ঘটনার মধ্য দিয়ে কোন বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ফায়দা লাভ করা যায় কিনা তারই প্রচেষ্টা ছিল বলে মনে হয়। সমস্ত বিষয়টি তদন্তাধীন। কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ফোনালাপসহ সবকিছুই তদন্তে বেরিয়ে আসবে। রোহিঙ্গা সমস্যা, খালেদা জিয়ার মামলার রায়, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অসমাপ্ত ঘটনাবলি, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের রাজনৈতিক বক্তব্য, মেয়র আনিসকে নিয়ে নানা কথাবার্তা এখন আলোচনার শীর্ষে।  এছাড়া ড. ইউনূস, একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবী, হঠকারী রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি, গোলটেবিলের বক্তা, কিছু এনজিও প্রতিষ্ঠান, কিছু রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, কিছু সরকারি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বে-সামরিক ব্যক্তি টকশোতে পারদর্শী, আমলা, সকল সমস্যা সমাধানকল্পে মত প্রদানকারী নিরাপদ দূরত্বে অবস্থানকারী, জনগণের সাথে যাদের কোন সরাসরি যোগাযোগ কোন দিনই ছিল না এখনো নেই- এরা বেশ সক্রিয়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে বসে ক্ষমতার ছড়ি ঘুরিয়ে সকল সুবিধা ভোগ করে অবসরে যাওয়া মানুষগুলি ও কিছু ব্যবসায়ী ছল চাতুরীর মাধ্যমে লুটেরা শ্রেণী রাজনীতিকে ক্ষমতার শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে নেতা হয়ে এবং মনোনয়ন নিয়ে এমপি মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। কতিপয় সুবিধাবাদী মানুষ রাজনীতি ও ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার কারণে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা রাজনীতির মাঠ দখলের চেষ্টা চলছে। কলো টাকা ও সম্পদশালীদের দাপটে পোষ্টার, ব্যানার, বিশাল গেট তৈরী, ছবি টানিয়ে, ফেইসবুকের কল্যাণে আসল রাজনীতি হারিয়ে গেছে। ত্যাগী কর্মীরা আদর্শবান নীতিবান হলেও মুল্যায়ন হয়না তাদের। অর্থবিত্ত আর মিথ্যার কাছে মার খেয়ে যাচ্ছে সত্য। ভালোর মুল্য এই সমাজে খুবই কম।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের দায়িত্বশীল নেত্রী তার শাসনামলে আলোচিত সাবেক অর্থমন্ত্রী এস.এম. কিবরিয়া হত্যা, আহসানউল্লাহ মাষ্টার এমপি হত্যা, ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা, ১৬ জন ঘটনাস্থলে নিহত, প্রায় ৫০০ জন আহত হওয়ার ঘটনাসহ সাবের হোসেন চৌধুরী এমপির বিরুদ্ধে প্লেট চুরির মামলা, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর সারা দেশে হিন্দুদের উপর ব্যাপক নির্যাতন, দখলবাজী, আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের উপর জুলুম নির্যাতনের কথা মানুষ ভুলে যায়নি। ক্ষমতার দাপটে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত-নিহতদের ঘটনায় তৎকালীন সময়ে সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পর্যন্ত উত্থাপন করতে দেওয়া হয়নি। উল্টো জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। ২১ আগস্টের ঘটনার মামলায় সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, তারেক জিয়া, ফাঁসিতে নিহত মাওলানা মুফতি হান্নান, তার ভাই পলাতক জঙ্গি তাজুল ইসলামসহ অনেকেই বিচারাধীন অবস্থায় আছে। বিএনপি আমলে হাওয়া ভবনে বসে কমিশন বাণিজের অভিযোগ কারো অজানা নয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারি ভবনের আদলে ক্ষমতার শক্তিশালী বলয় তৈরি করা হয়েছিল। বহু অপকর্মের স্বাক্ষী হাওয়া ভবন ও টঙ্গীর খোয়াব ভবন। গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, হারিছ চৌধুরীসহ অনেকেই ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের নানাভাবে হয়রানি করে অর্থ আদায় করত তারা। তারেক রহমান মরহুম আরাফাত রহমানের অর্থ পাচারের মামলা ও জিয়া অর্ফানেজ, নাইকো দুর্নীতি মামলা ফখরুদ্দিন, মঈন উদ্দিনের তত্ত্াবধায়ক সরকারের সময় রুজু করা হয়েছে। এবং মামলায় সিঙ্গাপুরের আদালতে আরাফাত রহমানের ৬ বছরের জেল ও ২০ কোটি টাকা সরকার দেশে ফেরৎ এনেছে। আরাফাত রহমান কোকো জীবিত থাকতেই মামলার রায় হয়েছে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও অর্থ পাচারের মামলায় আদালত কর্তৃক সাজা ঘোষণা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অবস্থান করে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিরুদ্ধে আপত্তিকর কথাবার্তা বলে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির দূরত্ব বাড়িয়ে যাচ্ছেন। যদিও তারেক রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাজনীতি না করার শর্তে মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়ে লন্ডনে আশ্রয় নিয়েছেন, তারপরও দেশে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে যাচ্ছেন নানা প্রক্রিয়ায়। গত ১৯শে অক্টোবর আদালতে বক্তব্য দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তিনি কেঁদেছেন। তার এ কান্না খুব বেশী মানুষের মনে সহানুভুতির জন্ম দিতে পেরেছে বলে মনে হয় না। এর আগে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি হারিয়ে তিনি কেঁদেছিলেন। মানুষ দেখছে বেগম জিয়া কাঁদেন শুধু নিজের জন্য। নিজের স্বার্থ বিপন্ন হলেই কেবল তার চেখের পানি বাধা মানে না। দেশের জন্য দেশবাসীর জন্য তার কান্না ও বেদনা বোধ নেই। ১৯৪ জন মানুষকে তথাকথিত সরকার পতনের আন্দোলনে আগুনে পুড়িয়ে হত্যায় তার চোখে পানি ছিল না। মানুষ অন্তত তেমন দৃশ্য দেখার সুযোগ পায়নি। বেগম জিয়ার রাজনীতি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনার বিরোধী ধর্মান্ধ জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী মৌলবাদীরা জোট নেত্রী হিসেবে তাকে ঘিরে রেখেছে। তিনি তাদের বলয় থেকে বেরিয়ে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির নেতা হয়ে রাজনীতি করলে ভালো করতেন। গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির দায় থেকে নিজেকে ও তার দলকে মুক্তি দিতে পারতেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত দল ও ব্যক্তিদের জিয়াউর রহমান রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেন। গোলাম আজম, মাওলানা মান্নান, মাওলানা মতিন গংদের এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে জামায়াত, নেজামে ইসলাম, মুসলিমলীগসহ আরো কিছু স্বাধীনতা বিরোধী রাজনীতিক দল ও ব্যক্তিকে যেমন ফজলুল কাদের চৌধুরী তার ছেলে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, সবুর খান, নিজামী মুজাহিদকে রাজনীতির সুযোগ করে দেন। খালেদা, তারেক ও তার দলীয় নেতারা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে মিথ্যা প্রচার করেছে। সত্যকে আড়াল করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছে। বঙ্গবন্ধুকে খাটো করার অপচেষ্টা, সংবিধান অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকার না করা, ১৫ই আগস্টে সমগ্র বাঙালি জাতি যখন শোকে, শ্রদ্ধায় মুহ্যমান তখন খালেদা জিয়া তার মিথ্যা জন্মদিন পালন করে নিজেকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। মিথ্যা দিয়ে সত্যকে ঢেকে রাখা যায় না বেশিদিন। খালেদা জিয়ার ১৫ই আগস্ট তার জন্মদিন না হওয়া সত্ত্বেও সেদিন তিনি কেক কাটেন।
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি লাভের পর প্রমাণিত হলো বিশ্ব ইতিহাসে সঠিক জায়গায় তার স্থান হয়েছে। যা হওয়া উচিত ছিল আরো আগেই। ৬ বছর আগে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসাবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ঢাকার বর্তমান এসপি শাহ্ মিজান শফিউর রহমানের সহধর্মীনী অধ্যাপিকা রোকেয়া খাতুন প্রথম ইউনেস্কোতে তুলে ধরেন। কি করে এক জাদুকরি ভাষণেই একটি দেশের স্বাধীনতা লাভে সকলকে একত্রিত করে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে পারে সেটাই উপস্থাপন করেছিলেন তিনি। রোকেয়া খাতুন ২০০৭ সালে প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিশন ফর ইউনেস্কোয়। ২০১১ সালে ইন্দোনেশিয়ার জার্কাতায় কোরিয়ান ইউনেস্কো আয়োজিত সেকেন্ড রিজিওনাল ট্রেনিং ওয়ার্কশপে অন দ্যা ইউনেস্কো “মেমরী অব দ্যা ওয়ার্ল্ড” এ বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন রোকেয়া খাতুন। তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ঐতিহ্যগত গুরুত্ব আছে ডকুমেন্টারি হেরিটেজ হিসেবে বাংলাদেশের এমন গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রামাণ্য দলিল উপস্থাপনের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, মার্টিন লুথার এর ভাষণের চাইতেও বঙ্গবন্ধুর ভাষণ আরো গুরুত্বপূর্ণ। অর্থবহ, নির্যাতন, শোষন, শাসন, পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ রাখা, হত্যা, বঞ্ছনার ইতিহাস মাত্র ১৭ মিনিটের ভাষণে তুলে ধরেছেন তিনি। তার বজ্র কন্ঠ ছিল অতুলনীয়। স্বাধীনতার প্রকারন্তরে ঘোষণা- যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ। এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম সবকিছুই তিনি বলে দিয়েছেন কোন কিছুই বাদ দেননি। সুনিপুনভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে রাজনীতির কবি তার ভাষায় অগ্নিঝরা কথামালার অবিস্বরনীয় ভাষণ দিয়েছেন। পৃথিবীর আর কোন জাতীয় নেতা তার মতো করে বলতে পারেননি আজ পর্যন্ত। এমন সাহসী, দৃঢ়চেতা, সৎ, দেশপ্রেমিক, নিরহংকার, মানবতাবাদী নেতা বিশ্বে খুঁজে পাওয়া যাবে না। যতই দিন যাবে বঙ্গবন্ধু তার আপন মহিমা, উজ্জ্লতা নিয়ে চির ভাস্বর হয়ে থাকবে অনন্তকাল ইতিহাসের কোলজুড়ে। ক্ষণজন্মা এই মহানায়ককে যারা হত্যা করেছে, হত্যাকারীদের যারা সহযোগিতা করেছে তারা, যারা তাকে মিথ্যা অপবাদে কলঙ্কিত করতে চায়, খাটো করতে চায়, ছোট করতে চায়, সমকক্ষ করতে চায়, বিতর্কিত করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। যে মানুষটির জন্য আজকের এই স্বাধীন-স্বার্বভৌম বাংলাদেশ, যার কারণে আমরা আজ অনেকেই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সাফল্যের চূড়ায় উন্নীত হয়ে মাথা উচু করে সাফল্যের জয়গান গাই, যার পরিচয়ে আমরা গর্বিত, তার অবদান স্বীকার করতে হবে।  ইউনেস্কো কর্তৃক এমন বিরল সম্মানে শুধু বঙ্গবন্ধুই সম্মানিত হননি, বাঙালি জাতি হিসেবে আমরা প্রত্যেকেই গর্বিত হয়েছি।
লেখক, কলামিষ্ট ও রাজনীতিক বিশ্লেষক
[email protected]