শনিবার, ১৯-আগস্ট ২০১৭, ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন

বানভাসী মানুষ-দলের-জোটের-ভোটের রাজনীতি

প্রকাশ : ২৬ জুলাই, ২০১৭ ০৫:১১ অপরাহ্ন

ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ার ফলে ডুবে যাওয়া অঞ্চলের মানুষজন, গরু-বাছুর, হাঁস-মুরগী ও ফসলের ব্যপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বাড়ি-ঘরে পানি উঠলে কি করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়, সেই সাথে কোথাও কোথাও নদী ভাঙ্গন মরার উপরে খাড়ার ঘা। একমাত্র ভুক্তভুগী লোকজন ছাড়া তাদের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা কাউকে বলে বুঝানো যাবে না। চোখের সামনে যার যে রকম সামর্থ্য সে অনুযায়ী সাজানো সংসার বন্যার পানিতে ভেসে চলে যায়। অসহায়ের মত চেয়ে চেয়ে দেখা ও করুণ বুকফাটা আর্তনাদ করা ছাড়া কি-বা করার থাকে, শুধু সৃষ্টিকর্তার করুণা ভিক্ষাই একমাত্র আরাধনা করে সর্বহারা মানুষগুলি। সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তড়িৎগতিতে যেভাবে পানি এসে সকল কিছু লন্ড-ভন্ড করে ফেলে সেই সকল অসহায় মানুষের পাশে এসে প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত ত্রাণ নিয়ে দাঁড়াতে পারে না। পানিবন্দী দুর্গম এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী সকল প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে, সেই সাথে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পরে বিরাট সংখ্যক মানুষ, শিশু, গর্ভবতী মহিলা, বয়স্ক বিভিন্ন রোগে অসুস্থ মানুষজন সবকিছু মিলে মানবিক বিপর্যয় বলা যায়, প্রকৃতির ভয়ঙ্কর আক্রোশের শিকার হয় প্রাণী ও উদ্ভিদ জগতের সবকিছুর উপরে আছড়ে পড়ে। দেশে-বিদেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস, ভূমিকম্প, প্রচন্ড শীত ও গরমে কত প্রাণহানী ঘটে সব হারিয়ে বহু মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে। আবার মানব সৃষ্ট বিপর্যয়- সন্ত্রাস ও গৃহযুদ্ধের কারণে এক সময়ে য মানুষগুলির সবই ছিল ভালভাবে বেঁচে থাকার জন্য তারা সব হারিয়ে বিবর্ণ হয়ে পড়ে, বেঁচে থাকাই যেন তাদের সবচাইতে বড় শাস্তি। এটা তাদের দূর্ভাগ্য ছাড়া কিই-বা বলা যায়। সরকারি ও সমাজের কিছু বিত্তবান, মানবিক গুণসম্পন্ন বিবেকবান, সমাজের সচেতন ব্যাক্তিবর্গ, কিছু প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংগঠন ও তার কর্মীবাহিনী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় এবং মানবতার জয় হয় তখনই। অনেক দেশের মতো আমাদের দেশেও এর অসংখ্য নজির আছে। অতীতের মতো এবারও আমরা বন্যায় বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। প্রায় একই সময়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৫৮টি জেলায় বন্যার ফলে শতাধিক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে এবং বন্যা কবলিত এলাকার অবস্থা খুবই মারাতœক আকার ধারণ করে।


গত বছর আসামে বন্যার ফলে এক বন্য হাতী পানির স্রোতের সাথে বাংলাদেশে চলে এসেছিল এবং বেশ কয়েকদিন টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছিল। ভারতের ও আমাদের পশু বিশেষজ্ঞদের চরম নির্বুদ্ধিতার কারণে হাতিটির বেঁচে থাকার সকল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও শিকল দিয়ে বেঁধে চেতনানাশক ইঞ্জেকশন দিয়ে পানিতে ফেলে দেয়ার কারণে হাতিটি অবশেষে মারা যায়। বাংলাদেশের মানুষ হাতিটিকে এত ভালবেসেছিল যে সারা দেশের মানুষ শোকার্ত হয়ে পড়েছিল। ঘটনাটি বহুদিন মানুষের মনে রেখাপাত করবে। বন্যায় উত্তরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর এখন মধ্য অঞ্চল ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পদ্মা ও যমুনার পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে এই লেখা যখন লিখছি সেই সময়ের তথ্যানুযায়ী। আমার নিজ এলাকা ঢাকা থেকে ৪৫ কি:মি পশ্চিমে নবাবগঞ্জ উপজেলার কাশিয়াখালির বেড়িবাঁধ নামে পরিচিত দোহারের কিছু অংশ আছে এরমধ্যে। দুই উপজেলায় কয়েক লক্ষ লোক বসবাস করে, ১৯৯১ সালের পর থেকেই প্রমত্তা পদ্মায় প্রকৃতির রোষানলে পড়ে ধীরে ধীরে পদ্মার স্্েরাতধারার পরিবর্তন হয়। প্রতি বছরই মাটির বাঁধটি  বর্ষা মৌসুমে পানির চাপে ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়, কালক্রমে সময়ের সাথে প্রকৃতিও বিরূপ আচরণ করে। বিশেষ করে ২০০১ সালে নির্বাচনের পূর্বে বর্ষা মৌসুমে বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়। তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রী মরহুম আব্দুর রাজ্জাক সাহেব এলাকাটি পরিদর্শন করেন। শুস্ক মৌসুমে বাঁধটির মাটির কাজ করিয়েছিলেন সেই সময়ে যিনি আওয়ামীলীগের প্রার্থী ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি জনাব মোঃ নুর আলী সাহেব। তারই প্রচেষ্টায়, আর্থিক সহায়তায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা এবং এলাকাবাসীর জীবন ও সম্পদ রক্ষার স্বার্থে সকল ভেদাভেদ ভুলে কাধে কাধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ফলে এটা সম্ভব হয়েছিল। ২০০১ সালে নির্বাচনকালীন সময়ে পানিসম্পদ উপদেষ্টকে দিয়ে জরুরিভাবে কাজ করাতে সচেষ্ট ভুমিকা রেখেছিলেন মোঃ নুর আলী সাহেব, সে কথা আজো স্বরণ করে কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ করে রেখেছেন নবাবগঞ্জবাসী। সেই সময়ে ৩২ টি স্কুল এমপিও ভুক্ত করেছিলেন। কয়েকটি স্কুল ভবন নির্মাণে অনুদান, ব্রীজ সংস্কার, তুলসিখালি মরিচা দুইটি ব্রীজ নির্মাণ ও জরুরিভাবে রাস্তা পাকা করিয়েছিলেন তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে দিয়ে। কাশিয়াখালি বেড়ীবাধটি ঢাকা জেলার সাথে মানিকগঞ্জ, দোহার, নবাবগঞ্জ, সিংগাইর- এ ৩টি উপজেলা হয়ে ঢাকা জেলার সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে। বাধটির ৩টি স্থানে সুইচ গেট হওয়া জরুরি। সিমেন্টের ব্লক দুই পাশে মজবুত করে বসিয়ে দিলে স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হয়। বাধের উপরে রাস্তা কার্পেটিং থাকলেও খুবই দুর্বল। ঐতিহ্যবাহী নবাবগঞ্জ ও দোহারবাসীকে রক্ষার জন্য মাত্র কয়েক কোটি টাকা খরচ করলে বাড়ি থেকে ঢাকা এসে কাজ সেরে বাড়ি ফিরে যাওয়া যায় প্রতিদিন, তাতে ঢাকা শহরের উপর কিছুটা চাপ কমে যাবে। জি.কে.ডি.এন রোড চার লেনের কাজ অচিরেই শুরু হবে। দোহারের জয়পাড়া, মেঘুলা, ফুলতলা, শিমুলিয়া, নটাখোলা বাজার, বান্দুরা, বারুয়াখালী, শিকারীপাড়া, দাউদপুর, কলাকোপা, বাগমারা, আগলা, চুরাইন, কোমরগঞ্জ, পারাগ্রাম, নবাবগঞ্জ উপশহরে পরিণত হয়েছে। দুটি উপজেলায় মানসম্পন্ন স্কুল-কলেজ, ক্লিনিক ও সরকারি হাসপাতাল রয়েছে, সবগুলির মান দিন দিন উন্নতি হচ্ছে।
দোহার, নবাবগঞ্জ- এ দুই উপজেলায় দেশ বরেণ্য শিল্পপতি- তাদের ৩টি গ্রুপ ইউনিক, বেক্সিমকো, যমুনা গ্রুপের কর্ণধারের জন্মস্থান। দোহার ও নবাবগঞ্জের প্রায় প্রতি ঘরেই কেউ না কেই বিদেশে থাকে। ছোট বড় শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, সচিব, উপ-সচিব, সরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, প্রাইভেট ব্যাংকের চেয়ারম্যান/ ডিরেক্টর, শিক্ষক, আইনজীবী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উচ্চপদে আসীন রাজনৈতিক নেতা, যেমন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক মন্ত্রী, শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, কলামিষ্ট, সম্পাদক সকলেই মিলে-মিশে এলাকার জন্য চেষ্টা করলে সকল ভাল প্রয়োজনীয় কাজ করা সম্ভব। আমার বিশ্বাস, আগামীতে ২০-২৫ বছরের মধ্যে দোহারের শেষ প্রান্ত নবাবগঞ্জের কাশিয়াখালী বেড়িবাধ পর্যন্ত এবং আরিচা, পাটুরিয়াসহ পুরো মানিকগঞ্জ জেলা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গাজীপুর জেলার পুরো অংশ ঢাকা জেলার সাথে একাকার হয়ে যাবে। প্রয়োজনের তাগিদে বড় বড় অনেক অফিস চলে যাবে। বর্তমানে গ্রাম হলেও আগামী দিনের বড় ঢাকা শহরের অংশে পরিণত হবে এটি। আমাদের সকলেরই গ্রামের বাড়িগুলো তখন বহুতল ভবন, কোথাও কোথাও শিল্প নগরী, বড় বড় অত্যাধুনিক বিশ্বমানের হাসপাতাল আধুনিক মল সুপার মার্কেট হয়ে যাবে। আমরা অনেকেই সেদিন এই ধরাধামে থাকব না। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, “পড়বে নাকো পায়ের চিহ্ন এই বাটে”, “নাই বা আমি থাকব।” পদ্মার ঐ পাড়ে জাজিরা অংশে বিশ্বমানের আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর ও কনভেনশন সেন্টারসহ বহু অবকাঠামো গড়ে উঠবে। ১৬ জুলাই প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণা করেছেন আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে, যাতে সকল নিবন্ধিত দলের সাথে আলোচনা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর মাধ্যমে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়। বিএনপির মহাসচিব তার প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বল্লেন, তাদের সহায়ক সরকার বিষয়ে আলোচনা না করে রোড ম্যাপ ঘোষণা করা ঠিক হয়নি। সহায়ক সরকার বলে সংবিধানে কিছু নেই। আন্দোলন করে সংবিধান সংশোধন করতে সরকারকে বাধ্য করতে পারলে সেটা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু আপনাদের তো সে মুরোদ নেই। আলোচনা করে তবে মানতে বাধ্য করতে পারবেন কিভাবে, সংবিধানে যা নেই তা নিয়ে আলোচনা হবেই-বা কেন।
খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় লন্ডন রওনা হয়ে পৌঁছেছেন। বড় এবং একমাত্র ছেলের বাসায় থাকবেন, চিকিৎসা করাবেন। মাঝে দুই মাস তিনি বিভিন্ন লোকের সাথে আগামী নির্বাচনে তার মুরব্বী পাকিস্তান, ইসরাইল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, সৌদি আরব, ভারতসহ অনেক দেশের গোয়েন্দাদের সাথে গোপনে আলাপ হবে তা প্রায় নিশ্চিত। তার পক্ষে লবিষ্ট নিয়োগ করা আছে। তিনি অনেক হিসাব-নিকাশ করে নির্বাচনে অংশ নিবেন এটাই স্বাভাবিক। আগামী নির্বাচনে তার দলের এবং জোটের প্রার্থী কারা হবেন তার একটা চিত্র তারেকের সাথে খসড়া করে নিবেন এটাই বাস্তবতা। শারীরিক সুস্থতা নিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসুক মানুষ এটাই চায়। কিন্তু যদি রাজনৈতিক অসুস্থতা দেখা দেয় তাহলে কি হয় তা বলা যায় না। আওয়ামীলীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে  তারেক রহমান দেশে আসবেন না। এখন প্রশ্ন হলো, মা আর ছেলে এক সঙ্গে সুখে-দুঃখে এক ছাদের নিচে সবার সাথে দেখা সাক্ষাৎ, আলাপচারিতা খোঁজ-খবর রাখা, নানা দিকে সলাপরামর্শ করা, নাতনীর সাথে সময় কাটানো, বৃটিশদের আতিথেয়তা গ্রহণ করা- একেবারে মন্দ হয় না, ভেবে দেখবেন কিনা বলা যায় না। কারণ এখানে আইনের হাতকড়া লাগে লাগে ভাব, কি জানি অজানা আশঙ্কা ঘিরে ফেলেছে তাকে। তার নেতাদের মধ্যে ব্যারিষ্টার মওদুদ সাহেবও তার মতো বাড়ি হারা। তিনিও লন্ডন যান প্রায়ই। নির্বাচনে অংশ নিলে একই আসনে ওবায়দুল কাদেরের পাল্লাটা একটু ভারী, নির্বাচনী এলাকার মানুষ তাই মনে করে। তাই ওখানে যাওয়া মন্দ হয় না। তার দলের অনেক কেতাদুরস্ত নেতারা এখানে থাকলে দুর্নীতি, আগুন সন্ত্রাসের নানা ঝামেলায় পড়তে হতে পারে। তাই আস্তে আস্তে তারাও ওখানে গিয়ে একটা সহায়ক সরকার গঠন করলে খুব খারাপ হয় না। ধনী নেতারা সেই চিন্তা করবেন না সে কথা বলা যায় না, কারণ দেশের আন্দোলনে মার খেয়ে খেই হারিয়ে ফেলেছেন তারা। জামাতেরও একটা শক্ত ঘাটি আছে লন্ডনে। আরো অনেক ঐক্যমতের লোকেরা আসবে ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য থেকে। দেশে শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস ফর্মুলার প্রবর্তক, ট্রেন লাইনের উপর দিয়ে দৌড়ে প্রথম স্থান অধিকারী, নাগরিক সমাজের মানুষ ও সুশীলেরা, ঈদের জামাতে এমপিসহ মানুষ হত্যাকারী, গণবাহিনীর বিপ্লবী নেতা একসময়ের বৈঞ্জানিক সমাজতন্ত্রের প্রবক্তা, ভাল লোক তৈরির কারখানার মালিক, ঈমানদার লোক, সব হারিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে বোন সম্বোধন করে কাঁঠালের কোষ ক্ষেতে চায় তারাতো দেশেই রইল। একটা মোর্চা গঠন করুক, অন্তত জামানত রক্ষা করার চেষ্টা করলে ক্ষতি কি। এরশাদ মোর্চা করেছে তিনশ আসনেই প্রার্থী দেবে। আওয়ামীলীগের সাথেও ঐক্যের মোর্চা আছে, থাকবে। তিনি কখন কি বলেন কি করেন ঠিক নেই। সর্বশেষ আওয়ামীলীগের সাথেই তার ঐক্যের ঠিকানা। এখন আসন কতটি পাবে দেখার বিষয়। আওয়ামীলীগের অনেকেই আবার ক্ষমতার শেষ সময়ে এসে গেছি মনে করে কোন কিছু খেতে অরুচী বোধ করছে না। কখনো কখনো বদহজম হয়। শীর্ষ নেতারা যখন ডেকে নিয়ে বকাঝকা করেন, জনগণ কেমন করে যে জেনে ফেলে। ভোটারবিহীনভাবে নির্বাচিত এমপিরা পুলিশ পাহারায় এলাকায় গিয়ে মিটিং ডেকে মুরগী, ছাগল, গরু জবাই করে বড় বড় আয়োজন করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপর চাপ সৃষ্টি করে জনসভার আয়োজন করার চেষ্টা করে। জনগণ খুব কমই উপস্থিত হয়। ফলে অস্থির হয়ে আবোল তাবোল বলে দুঃস্বপ্ন দেখে। তখন মনে হয় ‘সব ঝুট হায়’, আগামীতে আর রাজনীতিই করবো না। কাদের নিয়ে রাজনীতি করবো, মানুষ বুঝলো না, বোঝাতে পারলাম না। তারা আশায় আছে, নেত্রী উন্নয়ন করেছে তার গ্রহণযোগ্যতা আছে বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছে তাকে ক্ষমতায় রাখতে হলে আমাদেরকে ভোট দিবে। কিন্তু, সে আশার গুড়ে বালি । আগামী নির্বাচন হবে খুবই প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক, অবাধ-সুষ্টু, নিরপেক্ষ। তাই সৎ যোগ্য আদর্শবান চরিত্রবান পরীক্ষিত, যার মধ্যে গভীর দেশপ্রেম আছে- এমন অন্তত দল ও জোট থেকে তিনশ প্রার্থীর  মধ্যে দু’শ আসনে বিজয় নিয়ে আসতে পারবে তাদেরকেই মাঠে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে এখন থেকেই। হেফাজতিদের আশায় থাকলে ভরাডুবি হবে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না আসলে বাংলাদেশ পিছিয়ে যাবে।

                                                                       
কাজী শওকত হোসেন
লেখক ,কলামিষ্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
২৬ জুলাই, ২০১৭