রবিবার, ২০-মে ২০১৮, ০৮:০৩ অপরাহ্ন

অর্থপাচারে অভিনব কৌশল

sheershanews24.com

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারী, ২০১৮ ১১:৩৬ অপরাহ্ন

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা: মূলত  সরকারের সীমাহীন উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই দেশের অর্থভান্ডারে এখন শনির আছর পড়েছে। সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর বর্ষীয়ান অর্থমন্ত্রী বললেন ৪ হাজার কোটি টাকা তেমন কিছু না। শেয়ারমার্কেট কেলেঙ্কারির রথি-মহারথীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পুঁজিহারা বিনিয়োগকারীদের গালমন্দ করে বলেছিলেন, এরা নাকি পটকাবাজ। সম্প্রতি তিনি অবশ্য সে অবস্থান থেকে সরে এসেছেন এবং তিনি স্ববিরোধী কথাবার্তা বলতে শুরু করেছেন। তিনি এখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের ভূয়সী প্রশংসা করতে মোটেই কসুর করছেন না।
আমাদের দেশে রাষ্ট্রীয় অর্থভান্ডার থেকে অর্থচুরির মহোৎসব শুরু হয়েছে অনেক আগেই। আর তা এখন পর্যন্ত অব্যাহতই আছে। আর এ অর্থচুরির বিষয়ে ভিন্নমাত্রাও আছে। অনেকে অনিয়মতান্ত্রিক পন্থায় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা আর পরিশোধ করেন নি। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট ঋণের ৬৭ হাজার কোটি টাকা আদায়ের কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। এরপরই আছে জনতা ব্যাংক, প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৬ হাজার কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। অন্যান্য ব্যাংক মিলিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিতরণ করা মোট ঋণের বর্তমানে প্রায় ২৫ ভাগই খেলাপি- যা মোট ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এদিকে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গত ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অবলোপন করা হয়েছে ৩৪ হাজার কোটি টাকা। বিষয়টি বেশ উদ্বেগজনক।
আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা যেন কিছুতেই আমাদের পিছু ছাড়ছে না, বরং জগদ্দল পাথরের মত আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। ব্যাংকিং খাতে পুকুর চুরির পর রিজার্ভ চুরিতে ঘটেছে সাগর চুরির ঘটনা। ১৯৯৬ সালের পর ২০১০ সালে আবারও শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছিল। এরপর শকুনীর শ্যান দৃষ্টি পড়ে রাষ্ট্রায়াত্ত্বসহ বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ওপর। ঋণ নীতিমালা ভঙ্গ করে, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে ও পরিচালকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ব্যাংক লোপাট শুরু হয়। পুঁজিবাজার ও এর বিনিয়োগকারীদের সর্বস্বান্ত করার পর লুটেরাদের দৃষ্টি পড়ে ব্যাংকিং খাতের ওপর। এরপর হয় ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি। ঘটেছে রিজার্ভ লোপাটের ঘটনাও। কিন্তু এসব দেখার মত কেউ আছে বলে মনে হয় না। মনে হয় সবকিছুই গনিমতের মাল। তাই চলছে রাষ্ট্রীয় সম্পদের রীতিমত ভাগ-বাটোয়ারা। দায়িত্বশীলরাও এ বিষয়ে নির্লিপ্ত বলেই মনে হয়। যা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে কমপক্ষে ৮০০ কোটি টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে সাম্প্রতিককালে। প্রশ্ন উঠেছে, রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা চুরি হলে বাকি রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখার নিশ্চয়তা কী? সাইবার ক্রাইম থেকে প্রতিরোধেরই বা উপায় কী? সংশি¬ষ্টদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্যাকড হওয়ায় বিশ্বব্যাপী নতুন করে আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। কিন্তু থেমে নেই অর্থপাচারকারীদের দৌরাত্ব। মনে হয় দেশের অর্থনৈতিক খাত এখন পুরোপুরি অবিভাবকহীন। তাই রাজরাক্ষসেরা এখন সর্বভূক ও সর্বগ্রাসী হয়ে উঠেছে। অর্থপাচারকারী সিন্ডিকেট একেক সময় একেক পদ্ধতি অবলম্বন করছে।  এসব পাচারকারীরা নিত্য-নতুন কৌশলও আবিস্কার করছে। এক কৌশল প্রকাশ হবার পর নতুন নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে। যা আমাদের দেশের অর্থনৈতিক সেক্টরকে করেছে অস্থিতিশীল। আর এ অবস্থা যদি চলতে থাকে তাহলে আগামী দিনে আমাদের জন্য যে কি ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে তা অনুমান করাও কষ্টসাধ্য।
সম্প্রতি অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে ভয়াবহ এক নতুন ফর্মুলার সন্ধান মিলেছে। যেখানে মিথ্যা ঘোষণা দেয়ার মতো কিছুই ঘটছে না। ধার ধারছে না ওভার ইনভয়েসিং কিংবা আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের। এ ফর্মুলায় এলসিকৃত কোনো পণ্যসামগ্রী দেশেও আসছে না। প্রশ্ন হল- তাহলে অর্থ কিভাবে পাচার হচ্ছে? অনেকটা অবিশ্বাস্য হলেও সোজাসাপটা উত্তর- প্রভাবশালী মহল পণ্য জাহাজীকরণের কাগজ জাল করে এলসিকৃত পণ্যের পুরো টাকাই তুলে নিয়ে বিদেশে পাচার করছে। আর এটি সম্ভব হচ্ছে দেশের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের নীরব সমর্থন থাকার কারণে। এ সুবাদে বিদেশে অনেকে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ কিনতে সক্ষম হয়েছেন। বিনিয়োগের কোনো অনুমোদন না থাকলেও ইতিমধ্যে তারা বিদেশে অনেক সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সেক্টরের বিগ দুর্নীতিবাজদের বিপুল পরিমাণ অর্থও চলে যাচ্ছে এ চ্যানেলে। গণমাধ্যমে  এমন খবরই প্রকাশিত হয়েছে। যা বেশ ভাবতনার বৈকি !
এদিকে এমন ভয়াবহ অভিযোগ ভেতরে ভেতরে বেশ কিছুদিন থেকে চাউর হওয়ার পর প্রথম সারির কয়েকজন ব্যাংক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক জানিয়েছেন, সরকারের উচিত হবে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দেখা। সন্দেহভাজন ব্যাংকগুলো বিশেষ করে গত ১-২ বছরে যেসব ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের এলসি খোলা হয়েছে সেগুলো যাচাই করে দেখা। তাদের মতে, সব পক্ষ চাইলে এভাবে পাচার হওয়া অবাস্তব কিছু নয়। কারণ ব্যাংক দেখে ডকুমেন্ট। ব্যাংক কোনো পণ্যসামগ্রী দেখে না। আর সেই কাগজপত্র যদি জাল হয় এবং যেসব স্থান থেকে পণ্য আমদানির তথ্য যাচাই করার কথা সেখানে যদি না থাকে বা গায়েব করে দেয়া হয়, তাহলে তো কেউ এলসিকৃত পণ্যের সন্ধান করবে না। আর যিনি কোনো পণ্য জাহাজীকরণ না করে পুরো টাকা বিদেশে রেখে এসেছেন তার তো পণ্য তালাশ করার প্রশ্নই ওঠে না।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকার চাইলে সৎ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তি দিয়ে তদন্ত করলে অর্থ পাচারের ভয়াবহ এ অভিযোগ সঠিকভাবে তদন্ত করে পুরো বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। কিন্তু এক অজানা কারণেই সরকার সেদিকে অগ্রসর হচ্ছে না।  আসলে চারটি বিষয় যাচাই করলে খুব সহজে পাচারের তথ্য পরিষ্কার হবে। যেমন- বাংলাদেশের শিপিং এজেন্টের ডুকুমেন্ট তথা জাহাজীকরণের কাগজপত্র, পণ্য ছাড়করণ সংক্রান্ত কাস্টমসের বিল অব এন্টি পেপারস, সংশ্লিষ্ট এলসি ওপেনিং ব্যাংকের নথিপত্র এবং সবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারের তথ্য যাচাই। বর্তমানে এর সবই ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়। অনেক তথ্যই এক সার্ভার থেকে অন্য সার্ভারে এন্টি হয়। কিন্তু আমদানিকৃত পণ্যের এলসি সংক্রান্ত তথ্য যদি সার্ভারে না থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে বিপদটা সেখানেই ঘটেছে। যা দুর্ভাগ্যজনকই বলতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি সরাসরি জালিয়াতি। অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মিলে এ বিষয়ে তদন্ত করতে পারে। এক্ষেত্রে আইনি সহায়তা দিতে পারে আইন মন্ত্রণালয়। তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারে দুদকে। সব মিলিয়ে আইনানুগ তদন্ত এবং শাস্তি  নিশ্চিত করতে না পারলে অর্থপাচার বন্ধ করা যাবে না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সংশ্লিষ্ট এতদবিষয়ে কোন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে পাচারকারীরা এখন রীতিমত অপ্রতিরোধ্য।
আসলে এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছিল। এটা সরসরি জালিয়াতি। বিভিন্ন পক্ষের যোগসাজশে এমনটি করা হয়। জানা যায়,  প্রায় ২০ বছর আগে নারায়ণগঞ্জে এ ধরনের একটি ঘটনা ধরা পড়ে। আসার কথা ছিল তেলভর্তি জাহাজ, এসেছে পানিভর্তি জাহাজ। আর নতুন এ ফর্মুলায় তো কিছুই আনা হচ্ছে না (!) মূলত সুশাসনের ঘাটতির কারণে এসব জালিয়াতির ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন অভিজ্ঞমহল।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ঋণপত্র বা এলসি খোলার সময় ওভার ইনভয়েসিং কিংবা আন্ডার ইনভয়েসিং করে বিদেশে অর্থ পাচার করার অভিযোগ বা ফর্মুলা সেকেলে এবং আংশিক সত্য। তাছাড়া টাকা পাচার ছাড়াও আমদানি শুল্কের বোঝা কিছুটা কমাতে অনেকে আন্ডার ইনভয়েসিং করে থাকেন।
এছাড়া হুন্ডি করে টাকা পাচার আগেও ছিল, এখনও আছে। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় পরিমাণে খুব বেশি অর্থ পাঠানো যায় না। আর আন্ডার ইনভয়েসিং করলে টাকা বিদেশে পাচার করা হয় না। হুন্ডিতে যে টাকা পাঠানো হয় সে টাকার পণ্যও দেশে আনা হয়। এছাড়া ক্ষমতা কিংবা সুযোগ থাকলে কেউ কেউ বিমানে যাওয়ার সময় সরাসরি লাগেজভর্তি করে ডলার বিদেশে নিয়ে যান। তবে এ সুযোগও খুব কম। গার্মেন্ট বা অন্য কোনো পণ্য রফতানি করে কারসাজির মাধ্যমে তার একটি অংশ বিদেশে রেখে আসেন। তবে এভাবেও বেশি টাকা রেখে আসা সম্ভব নয়। কিন্তু টাকা পাচারের উদ্বেগজনক নতুন যে ফর্মুলার কথা বলা হচ্ছে, সেটি সম্ভব হলে বড় অংকের পাচার অনায়াসে করা সম্ভব।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এলসি প্রক্রিয়ায় জড়িত ব্যাংকগুলো আমদানি পণ্যের ডকুমেন্ট ছাড়া কখনও ফিজিক্যালি পণ্য বা মালামাল দেখে না। এটিই নিয়ম। তাই নিয়মানুযায়ী যখন কেউ এলসি খোলেন তখন ওপেনিং ব্যাংক বিদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এ সংক্রান্ত ডকুমেন্ট পাঠিয়ে থাকেন। সেখানকার নেগোশিয়েটিং ব্যাংক থেকে পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্টদের যে কেউ ডকুমেন্ট রিসিভ করেন। এরপর তিনি বিল অব লোডিং পেপারসসহ পণ্য জাহাজিকরণের সব কাগজপত্র সংযুক্ত করে ওই ব্যাংকে জমা দেন। কিন্তু এখানে অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে যেটি করা হচ্ছে, তা হল ব্যাংকে জমা দেয়া এ সংক্রান্ত কাগজপত্র সবই জাল। আর এ কাজটি যারা করেন তাদের কাছে এটি তেমন কোনো কঠিন বিষয় নয়। বিশেষ করে দুবাই ও সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশে এভাবে অর্থ পাচার করা খুবই সহজ। এ পন্থায় টাকা পাচারের সঙ্গে বাংলাদেশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী গ্রুপ সম্পৃক্ত। অভিযোগ রয়েছে, যাদের কেউ কেউ ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করছেন। ইতিমধ্যে বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
জানা যায়, বিদেশের নেগোশিয়েটিং ও মেইন ব্যাংক থেকে আমদানি পণ্য জাহাজিকরণের ডকুমেন্ট পুনরায় বাংলাদেশের ওপেনিং ব্যাংকে আসার পর নিয়মানুযায়ী যিনি এলসি খুলেছেন, তিনি টাকা জমা দিয়ে পণ্য ছাড়ানোর ডকুমেন্ট নিয়ে যান। এখানে ব্যাংকের কোনো দায়দায়িত্ব নেই। বিপরীতে বিদেশের নেগোশিয়েটিং ব্যাংক থেকে পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার দেশের মুদ্রায় অর্থ তুলে নেন।
এদিকে এলসি যিনি খুলেছেন তিনি যেহেতু বিদেশে পুরো টাকাই বাল্ক আকারে পাচার করেছেন, তাই তিনি আর ডকুমেন্ট নিয়ে তার পণ্য ছাড়াতে কোনো কাস্টমসে যান না। আর বাস্তবে তো তিনি কোনো পণ্য বা যন্ত্রাংশ আমদানিই করেননি। এসব কারণে এ চক্রের হোতারা বছরের বেশির ভাগ সময় বিদেশে অবস্থান করেন।
প্রশ্ন হল- এভাবে কেউ টাকা পাচার করলেও ৬ মাস পর তো বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটরিংয়ে ধরা পড়ে যাবেন। কেননা, যিনি এলসি খুলে বিদেশ থেকে পণ্য বা যন্ত্রাংশ আমদানি করেন তাকে কাস্টমস থেকে পণ্য রিলিজসংক্রান্ত বিল অব একচেঞ্জ পেপারস বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৬ মাসের মধ্যে জমা দিতে হয়। সূত্র বলছে, সংশ্লিষ্টদের সবার সহায়তা নিয়ে এসব করা হচ্ছে। যা আমাদের দেশের অর্থনীতিকে ক্রমেই হীনবল করে তুলছে।
আসলে সরকারের উদাসীনতা ও অব্যস্থাপনার কারেই দেশের অর্থনৈতিক সেক্টরে এখন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অর্থপাচারের কোন ঘটনা প্রকাশ হওয়ার সংশ্লিষ্টদের বেশ তৎপর হতে দেখা যায়। কিন্তু বাস্তবে যত গর্জে তত কিন্তু বর্ষে না। ‘ঢাক ঢাক গুর গুর’ খেলতে খেলতে তা এক সময় শুন্যে মিলিয়ে যায়। অপরাধীরা থাকে সম্পূর্ণ ধরাছোঁয়ার বাইরে। অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ায় তারা আরও উদ্যমী হয়ে নতুন করে অপরাধ প্রবণতায়  জড়িয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব অর্থপাচারের অপরাধের সাথে বেশীর ভাগই সরকার সংশ্লিদের সম্পৃক্ততা লক্ষ্য করা যায়। তাই এসব অপরাধী প্রতিবিধানে সরকারের নির্লিপ্ততা ও উদাসীনতা। কিন্তু দেশ ও জাতিকে সুশাসন উপহার দিতে চাইলে সকল প্রকার রাজনৈতিক বিবেচনার উর্দ্ধে উঠে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাতে আগামী দিনে এ ধরনের অপরাধে জড়িত হওয়ার কেউ সাহস না পায়। অন্যথায় আমাদের জাতিস্বত্ত্বার অপমৃত্যু কোন ভাবেই রোধ করা যাবে না।
সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা
[email protected]
ঢাকা-২২ জানুয়ারি/২০১৮ইং।