শুক্রবার, ২১-জুলাই ২০১৭, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
প্রকাশ : ১০ জুলাই, ২০১৭ ০৬:৫২ অপরাহ্ন

পাহাড় ধস হাওর বির্পযয় ও সরকারের উন্নয়ন

অনির্বাচিত সরকারের অপরাধ যেন কোনক্রমে ঘুচাতে না পেরে সরকর এখন গণতন্ত্রের থিউরি পাল্টে দিয়ে বলছে, আগে উন্নয়ন পরে গণতন্ত্র। “উন্নয়ন” বলতে যদি কিছু ইট, বালু, সিমেন্টের সংমিশ্রনকে বুঝায় তবে সরকারের মুখে উন্নয়নের যে ফেনা উঠেছে তার যথার্থতা যাই হউক না কেন আত্মতৃপ্তি পেতে দোষ কি?গণমানুষের “নিরাপত্তা” নিশ্চিত করা কি উন্নয়নের সীমারেখায় (Jurisdection) এ পড়ে না? জনগণের অর্থে সরকার যে রাস্তা বানালো সে রাস্তায় যদি আমার বা আমার সন্তানদের নিরাপদ না থাকে তবে সে রাস্তা আমার জন্য কতটুকু সেবা সহায়ক? মহামারীর মত সড়ক দুর্ঘটনা বাদেও রাজপথে গুম, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অধিকন্তু ধর্ষণ তো আছেই। এ নিরাপত্তার দায় নিয়ে ইট, বালু, সিমেন্টের সংমিশ্রনে Cover করা যাবে?

হাওর এলাকা বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনগণের আমিষের চাহিদা পূরণ করে। প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ ছাড়াও জীবীকা নির্ভর মৎস্যজীবীরা আধুনিক প্রযুক্তিতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করার ফলেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের তাজা মাছ বাজারে মিলছে। এ জন্য সরকারের আলাদা আলাদা অধিদপ্তর সংস্থা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করছে, যার মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় অর্থে অর্জিত বড় বড় ডিগ্রিধারী আমলারা।

“Prevention is better then cure” এ প্রবাদটি যদি স্বতসিদ্ধ হয় তবে হাওর বির্পযয় ও বিপর্যস্ত মানুষদের বাঁচানোর জন্য জনঅর্থে লালিত আমলারা কী Prevention নিয়ে ছিল তা কিন্তু জনমনে পরিষ্কার নয়। বরং বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে দুদক চেয়ারম্যানের একটি মন্তব্যে। যেখানে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার কথা ছিল তা দেয়া হয়েছিল ১০ মাস পরে। অথচ এ জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকার কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

অধিকন্তু দেখা যায় যে, হাওর বিপর্যয়ের সময় সংশ্লিষ্ট উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা একজোটে বিদেশে ছিলেন। এ নিয়ে অনেক কথা রয়েছে। যা নিয়ে চিন্তাশীল ব্যক্তিগণ আরো চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তারা মনে করেন যে, বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল কথার একটি পন্থা হিসাবেই পার্শবর্তী রাষ্ট্রের “খামখেয়ালীপনার” আর্শিবাদে এই হাওর বিপর্যয় (!)। তবে এটা খতিয়ে দেখে “স্বেতপত্র” প্রকাশ করায় Capacity কি সরকার দেখাবে?

পাহাড় সৌন্দর্যের প্রতীক। পবিত্র কোরআনে সূরা আননাবা (আয়াত ৪০: মাক্কী)-তে পৃথিবীতে পাহাড় সৃষ্টির উপকারিতার কথা বলা হয়েছে। পাহাড় দ্বারাই জমিনের থর থর কম্পন বন্ধ করাসহ জমিনকে ধীর স্থির রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উক্ত সূরায় বলা হয়েছে, “এ পাহাড়গুলোকে পেরেক স্বরূপ সৃষ্টি করা হয়েছে।”

আল কোরআনে অন্যান্য সূরাও পাহাড়ের উপকারিতার কথা উল্লেখ রয়েছে। অধিকন্তু পাহাড় রক্ষার অনেক আইন রয়েছে যা কার্যকর হয় না বলেই প্রায়সই পাহাড় ধসে মানুষের মৃত্যু হয়। ফুটপাতের দোকনদাররা যেমন বিনা ভাড়ায় ফুটপাতে বসে না, বস্তিতে বস্তিতে মাদক ব্যবস্থা যেমন বিনা টাকায় চলে না, হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলিতে যেমন দেহ ব্যবসা যেমন বিনা টাকায় চলে না; তেমনি পাহাড় কাটা বা পাহাড় কেটে ঘর তোলাও বিনা খরচে হয় না। সরকার রাজস্ব না পেলেও সরকারি আমলা, কামলা, মস্তান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলি পেয়ে থাকে যার “হপ্তা” (সাপ্তাহিক) বা “মাসোহারা” (মাসিক দেয় বাধ্যতামূলক চাঁদা) ব্যাপক পরিচিত।

ভুক্তভোগীরা এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারবে, যা জেনে প্রতিকার করার কোন আগ্রহ সরকারের থাকে না। কারণ এর পিছনেই রয়েছে সরকারি লোকজন, যারা সরকারের উন্নয়নের গলাবাজী করে গলা ফাটায়।  

লাভের গুড় যদি পিপড়ায় খায় তবে জনগণের লাভ কি? জনগণের অর্থে লালিত সরকার ও সরকারি কামলা যদি নিজ দায়িত্ব অবহেলার কারণে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় দেশবাসী এ ইট, বালুর বাহারী দৃশ্য দেখে তামাশার বেদনায় পরিণত হবে। যদি জাতীয় উন্নয়ন করতে হয় তবে মানুষকে সকল প্রকার ভয় ভীতির উর্দ্ধে রেখে সর্বপ্রকার আগ্রাসন থেকে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

Cure এর পূর্বে Prevention না হলে ব্যর্থতা অবশ্যই আসবে। Prevention না নেয়ায় অবহেলাজনিত ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে জাতীয় নিরাপত্তা দৃঢ়করণ হওয়া বাঞ্চনীয়।