বুধবার, ১৩-ডিসেম্বর ২০১৭, ০২:৫৬ অপরাহ্ন

রাখাইনে গণহত্যা ও বিশ্ব রাজনীতি

sheershanews24.com

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর, ২০১৭ ১০:১৩ অপরাহ্ন

কাজী শওকত হোসেন: মিয়ানমারের রাখাইন (আরাকান) রাজ্যে মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সুদীর্ঘকাল থেকে বংশ পরমপরায় বসবাস করে আসছে। তাদের ওপর সন্ত্রাসের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে অতর্কিতভাবে গত ২৫ আগস্ট আক্রমণ শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধরা।
২৫ আগস্ট গভীর রাতে রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে মুসলমানদের বাড়ি ঘরে আগুন দিয়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যা শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। বৌদ্ধ যুবকেরা সেনাবাহিনীর সাথে গণহত্যায় যোগ দেয়। তাদের বর্বরতা নিষ্ঠুরতা মানব ইতিহাসের এক জঘন্য ঘটনা হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটলো যখন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সুচি দীর্ঘ ১৫ বছর গৃহবন্দী থাকার পর তার দল “লিগ ফর ডেমক্রেসি” বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায়। এবং সুচি স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সেনাবাহিনী কর্তৃক প্রকাশ্যে নির্বিচারে মানুষ হত্যার মতো ঘটনা ঘটালেও সুচি সেই গণহত্যাকে সমর্থন দিয়ে আসছে।
১৯৪৮ সালেন ৪ জানুয়ারি সাবেক বার্মা বর্তমান মিয়ানমার ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। পরে প্রত্যক্ষ ও পরক্ষভাবে সামরিক বাহিনীর অধীনেই দেশটি পরিচালিত হয়ে আসছে।

মিয়ানমার প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদে ভরপুর। দীর্ঘকাল সামরিক শাসকদের পরিচালনায় দেশ পরিচালিত হওয়ার কারণে সারাবিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে তারা। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কখনোই প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারেনি সেখানে। এক জেনারেলের হাত থেকে আরেক জেনারেলের হাতে ক্ষমতা অর্পণ হয়েছে। রক্তাক্ত অধ্যায়ে রচিত হয়েছে তাদের ক্ষমতার পালাবদল। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের ও গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার শাসন ব্যবস্থার ভাববার তাদের কোনও সময় হয় নাই বা প্রয়োজন মনে করেনি।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এতটাই নিষ্ঠুর যে, ভিন্ন মতাবালম্বী কাউকে তারা সহ্য করতে পারে না। যখন যে ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করে তিনি শুধু প্রয়োজন হলে তার সমমনা জেনারেলদের সাথে শলাপরামর্শ করে সকল কিছু পরিচালিত করে। এর ফলে দেশে এবং বিদেশে কে কী- ভাবল তা তারা পরোয়া করে না। তারা একলা চলো নীতি অনুসরণ করে।

মিয়ানমার প্রায় সব সময় অবরোধ মোকাবিলা করে অভ্যস্থ। মিয়ানমারের সামরিক-বেসামরিক শাসন আমলে সকল অবস্থায় চীন, রাশিয়া ও ভারত তাদের বিশ্বস্ত বন্ধু। অতীতে মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠির একগুয়েমী নীতি, অত্যাচার, নির্যাতন দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বের বহু দেশ অবরোধ আরোপ করলেও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মিয়নমারের বিরুদ্ধে কোনও প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারে নাই- শুধু চীন ও রাশিয়ার কারণে। বিশ্বের ৫টি দেশ নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দেয়ার ক্ষমতা রাখে। এই অবস্থার পরিবর্তন হওয়া দরকার। আমরিকা, ফ্রান্স, ব্রিটেন, চীন, রাশিয়া- ৫টি দেশের মধ্যে যে কোনো ৩টি দেশ একমত হয়ে অন্যায়কারী দেশের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদ তার ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে এই ধরনের জাতিগোষ্ঠী নিধনের ব্যবস্থা বন্ধ করতে না পারলে জাতিসংঘ ঠুটো জগন্নাত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। এই ভাবে ভেটো ব্যবস্থা বজায় রাখলে বিশ্বের দেশে দেশে মানবতা ভুলুন্ঠিত হবে। তাতে জাতিগোষ্ঠী ও দেশ কীভাবে ন্যায় বিচার পাবে- তা নতুন করে ভাবতে হবে।

একটা বিষয় পরিষ্কার। মিয়ানমারে গণহত্যা সংগঠিত হয়েছে এ ব্যপারে সকলেই একমত। যদিও রাশিয়া রোহিঙ্গা বিষয়ে মিয়ানমারের আভ্যন্তরীণ বিষয় বলে তাকে সমর্থন করেছে। কিন্তু সেখানে গণহত্যা হয়নি- সেকথা বলে নাই রাশিয়া। চীনের সমর্থন মিয়ানমারের প্রতিই থাকবে সেই বিষয়টিও খুবই পরিষ্কার।

মিয়ানমারে চীনের ১৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আছে। রাশিয়া গ্যাস ও তেল ব্লকে তার বিনিয়োগ বাড়াবে। প্রচুর খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ আছে মিয়ানমারে। আয়তনে মিয়ানমার- বাংলাদেশের চাইতে প্রায় ৫ গুণ বড়। জনসংখ্যা ৫ কোটি ১০ লাখ। ভারতও নানা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছে দেশটিতে। ভবিষ্যতে বিনিয়োগ আরো বাড়াবে রাখাইন রাজ্যে শিল্প নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে। বিশ্বের আরো ধনী দেশ এগিয়ে আসবে মিয়ানমারে বিনিয়োগ করতে। ভূ-রাজনীতির কারণে একটি জাতিগোষ্ঠী হত্যা, উচ্ছেদ বা বিতাড়ন হলে মানবতা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়। তাদের অন্য দেশের সাহায্য সহযোগিতায় বসতির ব্যবস্থা করা হলে তাদের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হয় না। ধীরে ধীরে ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাড়ানো গেলে শক্তিশালী পাশের দেশ লাভবান হবে। তাতে মানবতার ক্ষতি হলেও অর্থনৈতিক লাভের বিষয়টি তাদের বড় স¦ার্থ হিসেবেই দেখবে।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন-রাশিয়া-ভারত সবচাইতে বড় বাধা। তারা আন্তরিক থাকলে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরাতে মিয়ানমারকে রাজি করানো সহজ হতো। আমেরিকা, বৃটেন, ফ্রান্স, কানাডাসহ অন্যান্য দেশ বাংলাদেশের সাথে একমত ও আন্তরিক হলেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে কতটা সক্ষম হবে সময় তা বলে দিবে। জাতিসংঘ আন্তরিক, তা সত্ত্বেও মিয়ানমার অর্থনৈতিক সামরিক ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বহুমুখি অবরোধ আরোপ হলেও সুচি ও সামরিক জান্তা কোনও কিছু শুনবে বা মানবে বলে মনে হয় না।

রোহিঙ্গা সমস্যা ১৯৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশের মানুষের বুকের উপর চেপে বসে আছে। দিন দিন এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। বাংলাদেশ শত অসুবিধার মধ্যেও রোহিঙ্গাদের শুধু মুসলিম হিসেবে নয়- মানুষ হিসেবে আশ্রয়, খাবার চিকিৎসা ও মানবতার সকল স্তর স্পর্শ করেছে। এই মানবিকতা ও বাংলাদেশের মানুষের মমত্ববোধ বিশ্ববাসী ভূয়সী প্রশংসা করেছে।

সুচির ভাঁওতাবাজি
সুচি জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনে যোগ না দিয়ে বিশ্ব সভায় নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন। গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশ্যে সুচির ভাষণে ৫টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। ১) তিনি শরনার্থী ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত, ২) মুসলমান রোহিঙ্গারা দেশে ছেড়ে চলে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন, ৩) মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত হবে, ৪) আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে তার ভয় নেই, কূটনীতিকদের পরিদর্শনে আমন্ত্রণ, ৫) আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হবে।

সুচির ওই ভাষণকে ভাঁওতাবাজি হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। কারণ তিনি গণহত্যার কথা স্বীকার করেন না। রোহিঙ্গাদের জন্মভূমি মিয়ানমার সে কথাও মানতে চান না।

একটা বিষয় সবার জানা যে, ১৯৮২ সালে আইন করে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিল করে বার্মা। এর পর থেকে তাদেরকে নাগরিক হিসেবে অস্বীকার করা, নাগরিকের সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা এবং তাদেরকে পৈত্রিক ভূমি থেকে উচ্ছেদ অভিযান চলছে।

এখন বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে নানা কথা বার্তা হচ্ছে। সুচিও ফিরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু সেই সাথে বেশ কিছু শর্তও জুড়ে দিয়েছেন।

বলা হচ্ছে, যারা নিজেদেরকে বলে মিয়ানমারের অধিবাসী ছিল, তার প্রমাণ দেখাতে হবে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে কোনও আলামতই তারা রাখে নাই। তাদের আবাসস্থল জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, হচ্ছে। তাদেরকে বাঙালি মুসলিম জাতিগোষ্ঠী বলা হচ্ছে। যা মোটেও সত্য নয়। তা হলে কীভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে?

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তা গভীরভাবে বিবেচনা করেন। শুধু মিয়ানমারের ওপর কথার চাপ সৃষ্টি করে কোনও লাভ হবে না। যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের তাদের জন্মস্থান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফিরিয়ে যাওয়ার কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে। তা হলেই তারা সকল অধিকার ফিরে পাওয়ার পথ খুঁজে পাবে। তা না হলে সমস্যার আশু সমাধানের কোনও কূল কিনারা হবে না।

বাংলাদেশের ওপর চাপ
এখন বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ভরণপোষণের যাবতীয় খরচ বছরে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। ভবিষ্যতে এ খরচ আরো বাড়বে। এখনই ৮০ হাজার রোহিঙ্গা নারী সন্তান সম্ভবা। প্রতিদিন প্রায় ৬০জন সন্তান জন্ম দিচ্ছেন। যা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নতুন করে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এসব নবজাতক-মাসহ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন সমস্যা, পরিবেশ রক্ষা, শিক্ষা, সুপেয় পানি, সেনিটেশন সমস্যা, ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা মৃত্যুজনিত দাফন সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

একই জায়গায় সারাক্ষণ আবদ্ধ থাকার কারণে তাদের মানসিক অবস্থা কী হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। নির্দিষ্ট অবস্থানে না রেখেও তো কোনও উপায় নেই। দেশি ও আন্তর্জাতিক মাদক, সন্ত্রাসী ও জঙ্গিগোষ্ঠী কোনভাবেই তাদের যেন ব্যবহার করতে না পারে তার সর্বাত্মক নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রোহিঙ্গা নিয়ে সরকার ও বিরোধীদলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবীরা প্রয়োজনীয় আলোচনার ভিত্তিতে ন্যূনতম ঐকমত্য থাকতে হবে। এটা দেশের ও মানুষের স্বার্থে জরুরি।

হীন মানসিকতার কারণে বড় ক্ষতি হতে পারে সমাজ ও রাষ্ট্রের। তা যেন আমরা না করি। সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ বিশ্ব সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে আমাদেরই খুঁজে বের করতে হবে। বিশ্ব সম্প্রদায় সব সময় যেন আমাদের পাশে থাকে, সেই কূটনৈতিক দক্ষতা আমাদের অর্জন করতে হবে। আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়া-ভারত আমাদের যে সাহায্য সহযোগিতা করেছিল তা কোনদিন ভুলে যাবার নয়। বাঙালি কৃতজ্ঞ জাতি হিসেবে সেই বিভিষিকাময় সময়ের কথা স্মরণ করে।

বঙ্গবন্ধুর বিশাল ব্যক্তিত্ব ও দক্ষ এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে ভারত এক কোটি শরনার্থী আশ্রয় দিয়ে খাবার, বস্ত্র ও চিকিৎসা দিয়েছে। সেই সাথে যুদ্ধের জন্য অস্ত্র, গোলা-বারুদ, প্রশিক্ষণ, কূটনৈতিক সহযোগিতা ছিল। যা ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দীরা গান্ধীর দূরদর্শী নেতৃত্ব, সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি প্রনব মুখার্জীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের অসামান্য অবদান।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন আমাদের অকৃত্তিম বন্ধু। তারা জাতিসংঘে ভেটো প্রদান ও অষ্টম নৌবহর প্রেরণের ঘোষণা কূটনৈতিক তৎপরতা, অস্ত্র-অর্থ যাবতীয় সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ করে রেখেছে। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দেশ পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবদানসহ বর্তমানেও রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বহু ক্ষেত্রেই আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু রাশিয়া। রোহিঙ্গা সংকট সমাধেনে আমাদের পাশেই থাকবে আমরা সেটাই আশা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা রাশিয়াকে পাশে পাইনি। জাতিসংঘের অধিবেশন সমাপ্ত। আমরা আশা করবো, প্রয়োজনে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারত, রাশিয়া চীন সফর করে মোদী, পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করে তাদের সহযোগিতা নিয়ে সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করবেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর চীন আমাদের উন্নয়নের সহযোগী দেশ। পদ্মা সেতুসহ বহু ক্ষেত্রে দেশটি আমাদের সহযোগিতায় পাশে আছে। চীনের প্রেসিডেন্ট বিষয়টি উপলব্ধি করবেন ও সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন সেটা আমরা আশা করতেই পারি। যদিও মুক্তিযুদ্ধের সময় চীন পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। আমরা যুদ্ধ করে স্বাধীনতা লাভের পর চীন তার অবস্থান পরিবর্তন করে। এখন আমাদের ভালো বন্ধু হিসেবে পাশে আছে। রাশিয়া, চীন, ভারত এই তিন দেশ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মিয়ানমার তাদের ঘনিষ্ট বন্ধু। তাদের কথা শুনবে ও মানবে। মিয়ানমারকে বুঝিয়ে ভারত রাশিয়া, চীন তাদের প্রভাব বলয় ধরে রাখতে সক্ষম। তাদের ভূ-রাজনীতির প্রসার ও ব্যপ্তি ঘটাতে পারে। তা না হলে এই অঞ্চল যদি অশান্ত হয় বাংলাদেশতো বটেই চীন ও ভারতে শান্তি বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা আছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দূরদর্শীতা দিয়ে ওআইসিতে ৬দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর ৬ দফা প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন জরুরি
দাবিগুলা হচ্ছে- ১. রাখাইনে রেহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করেতে হবে ২. নিরাপরাধ জনগোষ্ঠীর জন্য মিয়ানমারে নিরাপরাধ এলাকা তৈরি ও সুরক্ষা দিতে হবে ৩. বাস্তুচ্যুত  রোহিঙ্গাদের স্বদেশ ফেরার ব্যবস্থা করতে হবে ৪. আনান কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ নিঃশর্তভাবে অবিলম্বে বাস্তবায়ন করেতে হবে ৫. রোহিঙ্গাদের বাঙালি হিসেবে চিহ্নিত করার রাষ্ট্রীয় প্রপাগা-া অবশ্যই বন্ধ করতে হবে এবং ৬. রোহিঙ্গারা না ফেরা পর্যন্ত বাংলাদেশেকে জরুরি সহায়তা দিতে হবে মুসলিম দেশগুলোকে।

শেখ হাসিনার এই যোক্তিক দাবি পুরণ হলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
লেখক:  কলামিস্ট ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক।

(মন্তব্য প্রতিবেদন লেখকের একান্তই নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে রচিত, শীর্ষনিউজ২৪ডটকমের সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই)