বুধবার, ১৩-ডিসেম্বর ২০১৭, ০২:৫৫ অপরাহ্ন

নারায়ণগঞ্জে ২ 'জেএমবি সদস্য' গ্রেফতার

sheershanews24.com

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০২:৪৪ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবো এলাকা থেকে বন্দর থানার এজাহারভুক্ত আসামি ও 'নব্য জেএমবির সরোয়ার তামিম গ্রুপের' দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব-১১)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন,  মোঃ মামুনুর রশিদ মামুন (৩৪) এবং মোঃ ইসমাইল হোসেন (২৯)।

র‌্যাব জানায়, বুধবার রাতে রূপগঞ্জের তারাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের নিকট থেকে জঙ্গিবাদী নোটশিট উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের দাবি, মোঃ মামুনুর রশিদ মামুন ১৯৯৬ সালে নোয়াখালীর একটি মাদ্রাসা থেকে হাফেজি পাস করে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে চাকরি করেছে। ২০১৩ সালে তিনি জনৈক তাসনিমের সঙ্গে উগ্রবাদী অডিও আদান প্রদানের মাধ্যমে জিহাদে উদ্বুদ্ধ হন। ধীরে ধীরে তিনি হানাফি থেকে সালাফি মতাদর্শে প্রবেশ করেন।

পরে তার সঙ্গে পূর্বে গ্রেফতারকৃত জেএমবির সারোয়ার-তামীম গ্রুপের সদস্য আনোয়ার হোসেন, আবু ইউশা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মাসুদ আলম রানা, নাঈম এবং তারেকের পরিচয় হয়।

এদিকে ২০১৬ সালের মে মাস থেকে সে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি প্লাইউড ফ্যাক্টরিতে কাজ করছিল। এতে তার আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা ছিল। ফলে সংগঠনে তার গুরুত্ব বাড়তে থাকে।

একপর্যায়ে তার বাসায় জেএমবির বিভিন্ন কার্যক্রম ও গোপন বৈঠক চলতে থাকে। তিনি সংগঠনে পর্যাপ্ত অর্থ সহায়তাও প্রদান করতেন। সে সময় জেএমবির শীর্ষ স্থানীয় জঙ্গি সারোয়ার জাহান, ডাঃ নজরুল, তাসলিম ও নাঈম একাধিকবার তার বাসায় সংগঠনের গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিল।

২০১৫ সালের শেষ দিকে জেএমবির সারোয়ার-তামীম গ্রুপ সক্রিয় হওয়ার পর থেকে তিনি এই দলে যোগ দেয়। আব্দুল্লাহপুর এলাকায় সংগঠনের দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করা ছাড়াও তার বাসায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হত। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্রমাগত অভিযানের কারণে তিনি অনেকটা আড়ালে চলে যান। তবে সতর্কতার সাথে দাওয়াতী ও আর্থিক সহায়তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল মামুন।

অপরদিকে ইসমাইল হোসেন ঢাকার তুরাগের ২০০৫ সালে দারুল ফালাহ ছালেহিয়া সাহেব আলী আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ৮ম শ্রেণি পাস করে ২০১২ সালে ঢাকায় একটি কোম্পানিতে ও পরে তার ভাইয়ের স্টেশনারী দোকানে কাজ শুরু করেন বলে র্যাবের দাবি।

র‌্যাব জানায়, ২০১৪ সালে জেএমবি সদস্য এবং গ্রেফতারকৃত মোঃ মামুনুর রশিদ মামুনের মাধ্যমে তিনি সংগঠনে প্রবেশ করেন। মূলত আব্দুল্লাহপুর এলাকায় দাওয়াতী কাজ করতেন তিনি। সেই সাথে ধীরে ধীরে সংগঠনের অনেক সদস্যের সান্নিধ্যে এসে তার কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়। পূর্বে গ্রেফতারকৃত জেএমবির সারোয়ার-তামীম গ্রুপের সদস্য আনোয়ার হোসেন ও মাসুদ আলম রানাসহ আরো অনেক সদস্যের সাথে তিনি ঢাকার বিভিন্ন স্থানসহ গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় জেএমবির সদস্য সংগ্রহে কাজ করেছেন বলেও দাবি র্যাবের।

গ্রেফতারকৃত মোঃ মামুনুর রশিদ মামুন ও পূর্বে গ্রেফতারকৃত মাসুদ আলম রানার বাসায় সংগঠনের গোপন বৈঠক ও দাওয়াতী কার্যক্রমে সে নিয়মিত উপস্থিত থাকত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে বলে জানায় র‌্যাব।

শীর্ষনিউজ২৪ডটকম/প্রতিনিধি/এইচএস