শুক্রবার, ২০-অক্টোবর ২০১৭, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • যশোরে চিকিৎসকের জবরদস্তিতে রোগীর মৃত্যু, হাসপাতাল ভাঙচুর

যশোরে চিকিৎসকের জবরদস্তিতে রোগীর মৃত্যু, হাসপাতাল ভাঙচুর

sheershanews24.com

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন

শীর্ষনিউজ, যশোর: ডাক্তারের অনভিজ্ঞতা ও আনাড়িপনার কারণে রোগী মারা গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। মৃত ওই ব্যক্তির নাম তবিবুর রহমান (৫৫)।
এ ঘটনায়  যশোর আদ-দ্বীন হাসপাতাল ভাঙচুর করেছে রোগীর স্বজনরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বৃহস্পতিবার রাত ৭ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
তবিবুর যশোর শহরতলীর রামনগর পিকনিক কর্নার এলাকার মৃত মফেল সরদারের ছেলে। মাস দেড়েক আগে ইজিবাইক উল্টে তার একটি পা ভেঙে যায়।
স্ত্রী জোহরা বেগম ও ছেলে হাসান জানান, ভেঙে যাওয়া পায়ের চিকিৎসার জন্য তবিবুরকে গত ৯ সেপ্টেম্বর রেল রোডের আদ-দ্বীন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ডাক্তার নজরুল ইসলাম তার পায়ে অস্ত্রোপচার করেন। ১৩ দিন একটানা চিকিৎসার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তবিবুরকে ডাক্তার নজরুল ইসলামের কাছে আনা হয় ফলোআপের জন্য।
‘১৭০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে সিরিয়ালের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। রাত সাতটার দিকে ডাক্তার নজরুল ইসলামের রুমে তবিবুরের ডাক পড়ে। চেম্বারে নেওয়ার পর ডাক্তার ও তার ৪-৫ সহযোগী মিলে তবিবুরের পা সজোরে চেপে ধরেন। এসময়ই মারা যান তবিবুর। ডাক্তারের লোকজন যদি এভাবে চেপে না ধরতো তাহলে তবিবুর রহমানের মৃত্যু হতো না। তাকে হত্যা করা হয়েছে,’ কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন স্বামীহারা জোহরা।
ঘটনার ব্যাপারে ডাক্তার নজরুল ইসলামের ভাষ্য জানা যায়নি।
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ডাক্তার শিলা পোদ্দার বলেন, ‘এখানে তবিবুর রহমান নামে একব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। কীভাবে, কী কারণে তিনি মারা গেলেন তা একমাত্র ডাক্তার নজরুল ইসলামই বলতে পারবেন। আমার জানা নেই।’
ঘটনাস্থল থেকে আদ-দ্বীন শিশু হাসপাতালের ম্যানেজার মশিউর রহমান বলেন, ‘তবিবুর রহমানের মৃত্যুর পর তার স্বজনরা হাসপাতালের চেয়ার, টেবিল ভাংচুর করেছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নজরুল ইসলাম একজন খুবই ভালো ডাক্তার। তার হাতে কী করে ওই ব্যক্তি মারা গেল, বুঝতে পারছি না। তবে ঘটনা যা-ই হোক, তা দুঃখজনক।’
ম্যানেজার বলেন, ‘তবিবুর রহমানের মৃত্যুর জন্য যদি ডাক্তার নজরুল ইসলাম দায়ী হন তাহলে হাসপাতালের চেয়ারম্যান বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন’।
কোতয়ালী থানার এএসআই রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রেল রোড আদ-দ্বীন হাসপাতালের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর হয়েছে বলে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।’
শীর্ষনিউজ২৪ডটকম/রহিদুল/এইচ