শুক্রবার, ২৮-জুলাই ২০১৭, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • যশোর আ’লীগে কোন্দল: জেলা নেতাদের কেন্দ্রে তলব
| প্রকাশ : ১৭ জুলাই, ২০১৭ ০৯:০০ অপরাহ্ন

যশোর আ’লীগে কোন্দল: জেলা নেতাদের কেন্দ্রে তলব

এম.আইউব, যশোর: যশোর জেলায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে উভয় গ্রুপের নেতাদের ঢাকায় তলব করেছে দলীয় হাইকমান্ড। আগামী ২০ জুলাই তাদের ঢাকায় ডাকা হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ২০ ও ২১ জুলাই তাদের সাথে বৈঠক করে দ্বন্দ্ব নিরসনের চেষ্টা করবেন বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
যশোর জেলা আওয়ামী লীগে কোন্দল দীর্ঘদিনের। বর্তমানে এ দ্বন্দ্ব উপজেলা পর্যায়ে বিস্তৃত হয়ে পড়েছে। কোন্দল কেবল মূল দল আওয়ামী লীগেই নয়। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনেও তা ছড়িয়ে পড়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে দু’ ধারায় বিভক্ত। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও সদর আসনের এমপি কাজী নাবিল আহমেদ। এই গ্রুপের সাথে জেলার সব এমপি রয়েছেন বলে সভাপতি দাবি করেছেন। অপর গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার।
ঝিকরগাছা উপজেলায় সাবেক মন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মুসা মাহমুদ গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। প্রতিনিয়ত এ দু’ গ্রুপের মধ্যে সহিংস ঘটনা ঘটছে। শার্শায় এমপি শেখ আফিল উদ্দিন ও বেনাপোলের পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন দুটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এখানেও বিভিন্ন সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। চৌগাছায় এমপি মনিরুল ইসলাম ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম হাবিব দীর্ঘদিন ধরে মুখোমুখি অবস্থানে। একই অবস্থা মণিরামপুর এবং কেশবপুরেও।
মণিরামপুরে বর্তমান এমপি স্বপন ভট্টাচার্য ও সাবেক এমপি খান টিপু সুলতান পৃথক দুটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। কেশবপুরেও তাই। এখানে একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় এমপি প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক ও অপর গ্রুপের নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন।
দলীয় সূত্র মতে, অভয়নগর ও বাঘারপাড়ায় প্রকাশ্যে কোন্দল না থাকলেও ভেতরে ভেতরে বিরাজমান। এই অবস্থায় নেতাকর্মীরা এক প্রকার হতাশ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই হতাশা চরম আকার ধারণ করেছে।
বিষয়টি দলীয় হাইকমান্ডের নজরে গেছে। অবস্থা অত্যন্ত নাজুক আঁচ করতে পেরে কোন্দল নিরসণের উদ্যোগ নিয়েছে হাইকমান্ড। আগামী ২০ ও ২১ জুলাইয়ের ওই বৈঠকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং ছয় এমপিকে ডাকা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
শীর্ষনিউজ//প্রতিনিধি//এআর