শুক্রবার, ২২-সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • সৌদি আরবে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে চুয়াডাঙ্গায় তরুণীকে ধর্ষণ

সৌদি আরবে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে চুয়াডাঙ্গায় তরুণীকে ধর্ষণ

প্রকাশ : ১৭ জুলাই, ২০১৭ ১০:৪৬ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গবরগাড়া গ্রামে এক তরুণীকে সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৩ দিন ঘরের মধ্যে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে আদম ব্যাপারী (দালাল) জুম্মত আলী।
এ বিষয়ে মামলা করতে চাইলে গ্রামের প্রভাবশালী কয়েকজন মাতবর ধর্ষিতার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধামকি দিয়ে থামিয়ে রাখছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর ঘটনাটি চুয়াডাঙ্গা মানবতা ফাউন্ডেশনের কাছে জানালে রোববার সন্ধ্যায় মানবতা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
সোমবার ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে দালাল জুম্মত আলীর বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাস খানেক আগে তরুণীকে সৌদি আরবে নিয়ে যেয়ে লোভনীয় বেতনের কথা বলে একই গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে আদম দালাল জুম্মত আলী বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখায়। এরপর তরুণীর পরিবারের সদস্যরা জুম্মত আলীর হাতে ১ লক্ষ টাকা তুলে দেয়। গত ১ জুলাই ফিঙ্গার প্রিন্ট এর নামে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তরুণীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় জুম্মত আলী। কিন্তু ঢাকায় নিয়ে একটি বাড়িতে ৩ দিন আটক রেখে তাকে উপর্যপুরি ধর্ষণ করে জুম্মত আলী। গত ৪ জুলাই জুম্মত আলী তাকে বাবার বাড়িতে রেখে যান। বাড়ি ফিরে মায়ের সাথে সব ঘটনা বলে দেয় তরুণী।
তরুণীর বাবা জানান, পরিবারের স্বচ্ছলতা আনার জন্য একটি গরু বিক্রি করে ও বসতবাড়ির ভিটা বন্ধক রেখে ১ লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছিল জুম্মত আলীর হাতে। কিন্তু জুম্মত আলী বিদেশে নিয়ে যাওয়ার বদলে মেয়েকে ৩ দিন আটক রেখে ধর্ষণ করেছে।
ঘটনাটি গ্রাম্য মাতব্বর দেরকে জানানো হলে জুম্মত আলী প্রভাবশালী হওয়ায় শালিসের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। উপরন্তু বিষয়টি থানা পুলিশকে না জানানোর জন্য গ্রামের মাতবার আবুল আওয়াল ব্যাপারী ধর্ষিতার পরিবারকে হুমকি ধামকি দেন। পরে ধর্ষিতার বাবা মানবতা ফাউন্ডেশন সংস্থাকে জানালে রোববার সন্ধ্যায় মানবতার নির্বাহী পরিচালক এ্যাড মানি খন্দকার সহ সংস্থার অন্যান্য সদস্যরা গিয়ে ধর্ষিতার বাড়ি সহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মানবতা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট মানি খন্দকার জানান, মামলা প্রস্তুতি চলছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি তদন্ত আমির আব্বাস জানান, ধর্ষিতার বাবা থানায় অভিযোগ করলে ঘটনাটি যেহেতু ঢাকায় ঘটেছে এ কারণে  চুয়াডাঙ্গা থানায় অভিযোগ নেয়া সম্ভব হয়নি।

শীর্ষনিউজ//প্রতিনিধি//এআর