শনিবার, ২৫-নভেম্বর ২০১৭, ০১:২৯ অপরাহ্ন
  • অর্থনীতি
  • »
  • দু’টি উন্মাদনার বিষয়ে সকলের দৃষ্টি রাখতে হবে: প্রফেসর ইউনূস

দু’টি উন্মাদনার বিষয়ে সকলের দৃষ্টি রাখতে হবে: প্রফেসর ইউনূস

sheershanews24.com

প্রকাশ : ১২ নভেম্বর, ২০১৭ ০৭:৫৭ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ ডেস্ক: পারমাণবিক সমরাস্ত্র যার ফলে, কার্যত একটি বোতাম টিপে পৃথিবীকে বহুবার ধ্বংস করার সম্ভব এবং আরেকটি আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যা ক্রমাগতভাবে পৃথিবীর সকল সম্পদ গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত করে চলেছে। তাই এ দু’টি উন্মাদনার বিষয়ে সকলের দৃষ্টি রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

গত শুক্রবার (১০ নভেম্বর) পোপ ফ্রান্সিস আয়োজিত ‘পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ’ বিষয়ক ভ্যাটিকান শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে প্রফেসর ইউনূস এ কথা বলেন।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ক্রুটি দুর করতে পুঁজিবাদী কাঠামোটিকে কীভাবে এখনই পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন সে বিষয়ে তিনি আলোচনা করেন।

তিনি এই পুনর্বিন্যস্ত অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে সামাজিক ব্যবসার ভূমিকা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। বর্তমান উন্মত্ততা থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে তিনি তাঁর ‘তিন শূন্য’ অর্থাৎ শূন্য দারিদ্র, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নীট কার্বন নিঃসরণ-এর উপর জোর দেন।

এ প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আমরা আমাদের লক্ষ্যগুলোর সাথে আরো একটি লক্ষ্য যোগ করতে পারি, আর তা হচ্ছে শূন্য পারমাণবিক সমরাস্ত্র।

আর্টিফিসিয়াল  ইন্টেলিজেন্স এর উত্থানের বিপদ সম্পর্কেও সতর্কবানী উচ্চারণ করেন নোবেল জয়ী বলেন, এর ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। পৃথিবী জুড়ে লক্ষ লক্ষ পরিবারের জীবনে এর ফলাফল হবে বিধ্বংসী।

মানুষের পক্ষে চাকরী খুঁজে বেড়ানোটাই শুরুতে বন্ধ করতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন যে, মানুষ জন্মগতভাবেই উদ্যোক্তা, চাকুরী প্রত্যাশী নয়। অর্থনৈতিক তত্ত্ব মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে। আমরা উদ্যোক্তা হলে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স আমাদের জীবনকে ধ্বংস করে দেবার বিপদ থাকতো না। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মানুষকে বৃহৎ ব্যবসাগুলোকে বৃহৎ মুনাফা করতে সাহায্য করার পরিবর্তে বরং উদ্যোক্তা হতে ক্ষমতায়িত করা উচিত। তিনি এ বিষয়ক একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রস্তাব করেন যা সমাজে শুধু মানব-বান্ধব প্রযুক্তির অনুমোদন দেবে এবং মানব জাতির জন্য ক্ষতিকর প্রযুক্তিকে রুদ্ধ করবে, ঠিক যে-রকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা রয়েছে ঔষধ শিল্পের জন্য যেসব সংস্থা ক্ষতিকর বিভিন্ন ওষুধ নিষিদ্ধ করে।

পোপ ফ্রান্সিস এবং “হলি সী” আয়োজিত এই শীর্ষ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন মহামান্য পোপের সেক্রেটারী অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন, কার্ডিনাল পিটার কে. এ. টার্কসন, বেশ কয়েকজন নোবেল লরিয়েট এবং জাতি সংঘ নেতৃবৃন্দ।

সম্মেলন শুরুর পর পোপ ফ্রান্সিস অ্যাপোস্টলিক প্রাসাদে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। প্রফেসর ইউনূসসহ সম্মেলনে যোদানকারী কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে পোপ নিজেই অভ্যর্থনা জানান।

শীর্ষনিউজ২৪ডটকম/বিজ্ঞপ্তি/এসএমএকে