শনিবার, ১৬-ডিসেম্বর ২০১৭, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন
  • অর্থনীতি
  • »
  • বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই পর্ষদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠি

বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই পর্ষদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠি

sheershanews24.com

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর, ২০১৭ ০৭:৩০ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা: ৭৬ কোটি টাকা দিয়েও ভবন না পাওয়ায় বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সম্প্রতি বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বলেছে, সিঙ্কু আকরামুজ্জামান নামের যে ব্যক্তিকে ৭৬ কোটি টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে, সালিসের মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে আগে সেই টাকা আদায় করতে হবে। সালিসে না পারলে ক্ষতিপূরণের মামলা করতে হবে তাঁর বিরুদ্ধে। বিভাগটি আরও বলেছে, ব্যাংকের আইনজীবীদের মতামত নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের তৎকালীন সদস্যদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। আর চাকরিতে কর্মরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিতে হবে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যবস্থাও।

রাজধানীর মতিঝিলে সেনাকল্যাণ ভবনের বিপরীত দিকে প্রধান কার্যালয়ের জন্য ৫১ হাজার ৫০০ বর্গফুট স্পেস ৮১ কোটি টাকায় কিনতে সিঙ্কু আকরামুজ্জামানের সঙ্গে চুক্তি করে বেসিক ব্যাংক।
চুক্তির শর্তমতে, ১৫ তলা ভবন তৈরি করে আকরামুজ্জামান ১২ তলা দেবেন বেসিক ব্যাংকের নামে। ভবনের নাম হবে ‘জামান বেসিক ব্যাংক টাওয়ার’। বাধ্যতামূলক থাকলেও চুক্তিটি করার আগে সরকারের অনুমতি নেয়নি বেসিক ব্যাংক।

জানা গেছে, ২০১০ সালের ১ এপ্রিল হওয়া এই চুক্তির ব্যাপারে এককভাবে প্রভাব খাটান আবদুল হাই বাচ্চু এবং চুক্তির প্রথম দিনই আকরামুজ্জামানকে ৪০ কোটি টাকা দিয়ে দেওয়া হয়। ব্যাংক এরপর তাঁকে আরও দেয় ৩৬ কোটি টাকা। ২০১৩ সালের মার্চে নির্মাণকাজ শেষে ব্যাংককে ভবন বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল।

সূত্রগুলো জানায়, মাঝখানে ভবনের কোনো রকম একটি কাঠামো দাঁড়ালেও ভবন আর বুঝে পায়নি বেসিক ব্যাংক। আকরামুজ্জামানকেও ব্যাংক এখন খুঁজে পাচ্ছে না। ঘটনা গড়াতে গড়াতে গত মে মাসে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আসে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কাগজপত্র ঘেঁটে দেখেছে, এ বিষয়ে একাধিক অনিয়ম হয়েছে শুরু থেকেই, যে অনিয়মগুলোর জন্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠি দেয়।

আবদুল হাই বাচ্চু ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে চেয়ারম্যান হয়ে বেসিক ব্যাংকে যোগ দেওয়ার তিন মাস পরই এই কেলেঙ্কারির সূত্রপাত হয়। গত ৩০ জুন পর্যন্ত বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৫৩ শতাংশ, পরিমাণ ৭ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা।
শীর্ষনিউজ২৪ডটকম/এসএমএকে