শনিবার, ২৫-নভেম্বর ২০১৭, ০১:৩৩ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • তথ্য গোপন করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে অবৈধ পদোন্নতি

তথ্য গোপন করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে অবৈধ পদোন্নতি

sheershanews24.com

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০৩:০৫ অপরাহ্ন

শীর্ষ কাগজের সৌজন্যে: প্রাণীসম্পদ অধিদফতরের একজন কর্মকর্তাকে আদালতে মামলা ও আদালত থেকে অস্থায়ী জামিন নেওয়ার তথ্য গোপন করে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এমনকি পদোন্নতির পর এই কর্মকর্তাকে উপপরিচালক (প্রশাসন)এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ও লোভনীয় পদে পদায়নও করা হয়েছে। ভাগ্যবান এ কর্মকর্তার নাম ড. আবুল খায়ের। মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির আত্মীয় হওয়ার সুবাদে ড. আবুল খায়েরকে এমন অবৈধ পদোন্নতি ও পদায়ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, কুমিল্লার জজ কোর্টের আমলি আদালতের যৌতুকের সি আর মামলা নং ১০৬৫/১৪ এবং জালিয়াতির সি আর মামলা নং ১০৩২/১৪ ও কুমিল্লা সদর থানার জিডি নং ১৬৭৯/১৫  এর তথ্য গোপন করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (চ:দা:) ও কুমিল্লার বাসিন্দা ড. আবুল খায়েরকে সম্প্রতি উপপরিচালক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। প্রাণীসম্পদ অধিদফতর থেকে পদোন্নতির যে প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় তাতে এসব তথ্য গোপন করা হয়। এছাড়া আবুল খায়ের সম্পর্কিত এসব তথ্য সরাসরি মন্ত্রণালয়েও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে এসেছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের পদোন্নতি কমিটি তা আমলে না এনে আবুল খায়েরকে অবৈধভাবে পদোন্নতির সুপারিশ করে এবং সেই সুপারিশ অনুযায়ী পদোন্নতির আদেশও জারি হয়।  
সূত্র জানায়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক পিএসও ড. খায়ের তার প্রথম স্ত্রী মিসেস সালমা বেগমকে রেখে গোপন পরকীয়ার মাধ্যমে  করিম পীরের স্ত্রী ৩ সন্তানের জননীকে বিবাহ করে অন্যত্র বসবাস শুরু করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রথম স্ত্রী মিসেস সালমা বেগম ড. খায়েরকে চাপ সৃষ্টি করেন। পারিবারিকভাবে সমাধা করার লক্ষ্যে এক শালিসী বৈঠক হয়। উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে ড. খায়ের যৌতুক হিসেবে নগদ ১০ লক্ষ টাকা এবং কুমিল্লা শহরে ২ কাঠা জমি দাবি করেন। পরে এক পর্যায়ে মিসেস সালমা বেগমের নিকট হতে পাসপোর্ট করার নাম করে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে নেন তিনি। এসব নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে সালমা বেগমকে জীবন নাশের হুমকি দেন। সে প্রেক্ষিতে সালমা বেগম আদালতে মামলা ও জিডি করেন।
এসব বিষয় নিয়ে সালমা বেগম প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বর্তমান ডিজি (ড. খায়েরের বন্ধু) ডা: মো: আইনুল হক, পিডি ডা. মাহবুবল হকসহ অনেকের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু কোনও প্রতিকার পাননি বলে এ প্রতিবেদককে জানান। এ বিষয়ে গত ২১/১/২০১৭ইং তারিখে মামলার কাগজপত্রাদি, গ্রেফতারি পরোয়ানার কপি, অস্থায়ী জামিন নামার আদেশের কপি, জিডির কপিসহ বিস্তারিত উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন এবং সচিবের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাতও করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সালমা বেগমকে সচিব সাক্ষাত দেননি বলে সালমা বেগম এ প্রতিবেদককে জানান।
ড. খায়েরের বিরুদ্ধে দায়ের করা এসব মামলা এবং অস্থায়ী জামিনের বিষয়গুলো মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এর বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটিতে পাঠানো অপরিহার্য হলেও অধিদফতরের মহাপরিচালক তা পাঠাননি। উল্লেখ্য, প্রাণীসম্পদ অধিদফতরের বর্তমান মহাপরিচালক ডা. মো আইনুল হক অত্যন্ত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজে ইতিপূর্বে একধিক প্রতিবেদনে তার বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল। যেহেতু প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয় ডা. আইনুল হকের ম্যানেজড, তাই তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগও আমলে আনছে না মন্ত্রণালয়। বরং তার সকল অপকর্ম ধামাচাপা দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সরকারের বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক পদোন্নতির প্রস্তাবের সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী সম্পর্কিত সকল তথ্য উপস্থাপন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু, মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির কাছে পাঠানো পদোন্নতির প্রস্তাবে আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে আদালতে যে ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং তিনি যে অস্থায়ী জামিনে আছেন এসব তথ্য পাঠায়নি প্রাণীসম্পদ অধিদফতর। এমনকি আবুল খায়েরের স্ত্রী সালমা বেগম সরাসরি এসব তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটিতে জমা দিলেও কমিটি তা আমলে আনেনি। বরং এ বিষয়গুলো গোপন রেখে বিগত ৫/১০/২০১৭ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত পদোন্নতি কমিটিতে অন্যদের সাথে ড. খায়েরকেও পদোন্নতির সুপারিশ অনুমোদন করিয়ে নেন মন্ত্রণালয়ের সচিব।  পদোন্নতিপ্রাপ্ত ১২ জন উপপরিচালকের মধ্যে ড. খায়েরের অবস্থান ১০ম। কিন্তু তাকে সবচেয়ে লোভনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ পদ বলে পরিচিত, উপপরিচালক প্রশাসন পদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এখানেও প্রভাবশালী ব্যক্তির ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে বলে সূত্রটি জানায়। উল্লেখ্য, অন্যদের ডিঙিয়ে ইতোপূর্বেও ড. খায়েরকে উপপরিচালক প্রশাসনের চলত্বি দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল।
মিসেস সালমা বেগমের প্রশ্ন, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরে আদালতে  আত্মসমর্পণ করে অস্থায়ী জামিনপ্রাপ্ত আসামীকে কর্তৃপক্ষ কীভাবে পদোন্নতি দিল? উল্লেখ্য যে, ড. খায়ের বিগত ৩০/১২/২০১৪ ইং তারিখে আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত বিভিন্ন শর্তে মামলার পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত অস্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত বিগত ২১/১০/২০১৫ ইং তারিখে  ১৯৮০ সনের যৌতুক বিরোধী আইনের ৪ নং ধারায় ড. খায়েরের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন।
(সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজে ২০১৭ সালের ৬ নভেম্বর প্রকাশিত)