বৃহস্পতিবার, ১৪-ডিসেম্বর ২০১৭, ০৪:১১ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • নিখোঁজের তালিকা ভারী হচ্ছে, আতংকিত সাধারণ মানুষ

নিখোঁজের তালিকা ভারী হচ্ছে, আতংকিত সাধারণ মানুষ

sheershanews24.com

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০৯:০২ অপরাহ্ন

বিশেষ প্রতিবেদক, শীর্ষনিউজ ডটকম: রাজধানীর ধানমণ্ডিএলাকা থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন ভিয়েতনামে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান (৬৫)। এ ঘটনায় তার মেয়ে সামিহা জামান ধানমণ্ডি। গত ৪ ডিসেম্বর সোমবার বিকেল ৫ টায় ধানমণ্ডির বাসা থেকে বিমান বন্দরের উদ্দেশ্যে বের হন মেয়ে সামিহা জামানকে রিসিভ করতে। সামিহা জামান সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বিমান বন্দরে পৌঁছার কথা। সামিহা জামান বিমান বন্দরে পৌঁছে বাবাকে দেখতে পাননি। এরপর পরিবারের সদস্যরা মারুফ জামানকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে অবশেষে মঙ্গলবার সকালে ধানমণ্ডি থানায় জিডি করেন। সারাদেশে সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত নিখোঁজের সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এটি।
মারুফ জামান ২০০৫ সালে ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তিনি ১৯৭৩ সালে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন থাকা অবস্থায় পররাষ্ট্র ক্যাডারে আত্মীকৃত হন। এরপর থেকে বিভিন্ন দূতাবাস ও হাইকমিশনে দায়িত্ব পালন করে সর্বশেষ ভিয়েতনামে রাষ্ট্রদূত থাকাকালে ২০০৯ সালে চাকরি জীবন শেষ করেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, নিখোঁজ হওয়ার পর ৪ ডিসেম্বর সোমবার গভীর রাতে মারুফ জামান তার বাসায় ফোন দিয়ে তার রুমে থাকা ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির কাছে দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওইদিন রাত ২টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তার বাসায় গিয়ে ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক নিয়ে যায়। ধানমণ্ডি থানায় দায়ের করা জিডির তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশ জানায়, মারুফ জামানের সর্বশেষ অবস্থান ছিল সোমবার সন্ধ্যা ৭ টা ১৯ মিনিটে কাওলা দক্ষিণ খান এলাকায়। এরপর থেকে তার আর কোনও অবস্থান মেলেনি।
এর আগে গত ২৭ নভেম্বর নাটোরের বড়াইগ্রামের জোনাইল সেন্ট লুইস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জোনাইল ধর্মপল্লীর সহকারী পাল-পুরোহিত ফাদার ওয়াল্টার উইলিয়াম রোজারিও (৪০) আকস্মিক নিখোঁজ হন। ওইদিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বনপাড়া মিশন মার্কেট থেকে জোনাইল ধর্মপল্লীতে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পোপ ফ্রান্সিসের বাংলাদেশে আগমনের মুহূর্তে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হয়। অবশেষে ৫ দিন পর ১ ডিসেম্বর তাকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
তবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এ রকমের রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার অনেক মানুষের আর খোঁজ মিলছে না। সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনার প্রবণতা অনেকটাই বেড়ে গেছে। তাই এ নিয়ে বিরাজ করছে এখন চরম এক আতঙ্ক। পরিস্থিতি এমন যে, কেউ এখন ঘর থেকে বের হতেই শঙ্কায় থাকেন। রহস্যজনক এসব নিখোঁজের ঘটনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যদিও দাবি করছেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর। কোনো নিখোঁজের ঘটনাই আড়ালে থাকবেনা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিখোঁজদেরকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কার্যত এসব আশ্বাসের তেমন একটা বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। যেভাবে একের পর এক নিখোঁজের ঘটনা ঘটছে এবং নিখোঁজের নেপথ্য কারণ আড়ালে থেকে যাচ্ছে, তাতে আতঙ্ক বাড়ছেই।
নিখোঁজের এসব ঘটনায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জড়িত বলে অভিযোগ করছেন নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দিকে আঙ্গুল তুলে ভুক্তোভোগী এসব পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, তারা তাদের পরিচয় পত্র না দেখিয়েই জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যান। কোথায় নিচ্ছেন, কেন নিচ্ছেন এসব প্রশ্নের কোনো উত্তরও দেন না। তুলে নিয়ে যাওয়ার পরেই পরিবারের ওই সদস্যের সন্ধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হলেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ ভূক্তোভোগী পরিবারগুলোর। এমন অভিযোগ তুলেই নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা বলেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এমন আচরণের কারণেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া নিখোঁজের এসব ঘটনাগুলোর শিকার ব্যক্তিরা সহসা ফিরে আসতে পারেন না।  
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক নিখোঁজের খবর ছাপা হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমে। নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা জানেন না কখন ফিরবেন তাদের সন্তান, বাবা, ছেলে অথবা ভাই। নিখোঁজের এমন ঘটনা এবং তাদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রায় প্রত্যেকটি নিখোঁজ পরিবারের সদস্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধাচরণ করছেন।
গত ১৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরা ক্লাবের সামনে থেকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আজম খান ও তাঁর ছেলে আইনান খানকে অচেনা দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়। পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপে তিনশ’ ফুট রাস্তার কাঞ্চন ব্রিজের কাছে আজম খানকে পাওয়া গেলেও আইনান খানকে পাওয়া যায়নি।
এর কয়েকদিন আগে গুম হন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মোবাশ্বার হাসান। অধ্যাপক মোবাশ্বার হাসান সিজারের বাবা মোতাহার গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, গত ৭ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় তিনি সিজারকে কল করলে সে ধরতে পারেনি। ঘণ্টাখানেক পর কল ব্যাক করে বলে, জাতিসংঘের একটি বৈঠকে যাচ্ছে। রাতে বাসায় ফিরবে। কিন্তু রাত ৯টা বেজে যাওয়ার পর ছেলে বাসায় না ফিরায় তিনি কল করেন। তখন তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। সেই থেকে এখনো তার খোঁজ মিলছে না।
প্রসঙ্গত, সিজার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে কিছুদিন সাংবাদিকতা করেন। পরে যুক্তরাজ্যে মাস্টার্স ও অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করেন। দেশে ফিরে এসে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দেন। তিনি বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মীয় সম্পৃক্ততাও গবেষণার বিষয় ছিল তার। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন' প্রকল্পের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
তার এক বন্ধু আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যম বলেছিলেন, “সিজারের এ সব কাজ ছিল পুরোপুরি গবেষণাধর্মী। এই গবেষণার মধ্যে জঙ্গি দমন বা এ জাতীয় কিছু ছিল না। তবে সে সম্প্রতি তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। আর এ কারণেই সম্প্রতি সে তার বাসায় ‘সিসি ক্যামেরা’ লাগিয়েছিল।” যদিও ডিএমপি পুলিশের কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানিয়েছিলেন, “সিজার তার নিরপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে থানায় কখনও কোনো তথ্য দিয়েছে বলে তার জানা নেই।
এছাড়াও গত আগস্টে নয়াপল্টন থেকে সাভারের আমিনবাজারের বাসার উদ্দেশে রওনা হয়ে গুম হন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান। এর পরপরই গত ১০ অক্টোরর নিখোঁজ হন একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের রিপোর্টার উৎপল দাস। গুমের ওই ঘটনা গুলোর পর থেকে শুরু হয়ে প্রতিনিয়তই দেশের কোনো না কোনো স্থান থেকে কেউ না কেউ গুম হচ্ছেন। আবার এদের মধ্যে যারা ফিরে এসেছেন বা আসতে পেরেছেন, ফিরে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে বেশির ভাগ লোকই অজানা কারণে নিজের নিখোঁজের বিষয়ে চুপচাপ থাকছেন। ফলে ঘটনার রহস্য আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। আর দীর্ঘ হচ্ছে গুম হওয়াদের তালিকা।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রতি মাসেই রাজধানী থেকে কোনো না কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, অনেকে ইচ্ছা করেই আত্মগোপনে গিয়ে সরকারকে বিব্রত করছেন। তবে যাই ঘটুক না কেন, নিখোঁজরা তাড়াতাড়ি ফিরে আসবেন বলে আশা করছি। আমাদের গোয়েন্দা বাহিনী কাজ করছে। আশা করি, তাদের ফিরিয়ে দিতে পারব। আমি সবসময় বলি, মিসিং হওয়ার পেছনে কিছু কারণ থাকে। অনেকে ইচ্ছা করে মিসিং হয়ে যাচ্ছে বা আত্মগোপনে গিয়ে আমাদের বিব্রত করছে। এ ধরনের মিসিংয়ের সুরাহা করা গোয়েন্দাদের জন্য একটু কষ্টকর। তারপরও আশা করি, তাদের ফিরিয়ে আনতে পারব।
নিখোঁজের এসব ঘটনা নিয়ে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাবে, ২০১৪ সাল থেকে জুন ২০১৭ সাল পর্যন্ত রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ বা অপহরণের শিকার হয়েছেন ২৮৪ জন। তাঁদের মধ্যে লাশ হয়ে ফিরেছেন ৪৪ জন, আর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাদা পোশাকধারীসহ অন্যান্য সদস্যদের হাতে গ্রেফতার হয়ে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে গ্রেফতার ছিলেন ৩৬ জন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সেসময় এদেরকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল। যদিও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে ধরে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ দিন আড়াল করে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও এসব নিখোঁজদের মধ্যে পরিবারের কাছে ফিরে আসেন ২৭ জন। বাকি ১৭৭ জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে সেই সম্পর্কে আদৌ কোনো তথ্য জানা যায়নি।
আইন ও সালিস কেন্দ্র আসকের পরপরই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিখোঁজের এসব ঘটনা নিয়ে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। পরিসংখ্যানটিতে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৫২ জন গুম-অপহরণের শিকার হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ফিরে এসেছেন আইএফআইসি ব্যাংকের কর্মকর্তা শামীম আহমেদ। অপহরণের পাঁচ দিন পর দুর্বৃত্তরা তাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় মতিঝিল থানা এলাকায় ফেলে যায়। তাকে অপহরণের সঙ্গে জড়িত কেউ এখনও ধরা পড়েনি। ফলে কে বা কারা তাকে অপহরণ করেছিল, তা অজানাই রয়ে গেছে। সেই পরিসংখ্যানে গত ২৬ আগস্ট কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্র ইশরাফ আহমেদ ফাহিম ও এবিএন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাদাত আহমেদ নামের ২ জন নিখোঁজ হয় বলেও উল্লেখ করা হয়। তাদের কেউই এখনো পর্যন্ত ফিরে আসতে পারেনি বলেও মানবাধিকার কমিশনের ওই পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়াও নিখোঁজ ও অপহরণের এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে গুমের ঘটনার শিকার হয়েছিল ৯০ জন।  
মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন এমন একজন কর্মী নূর খান লিটন গণমাধ্যমকে বলেছেন, তাদের পর্যবেক্ষণে তারা দেখেছেন নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার জিডি করতে গেলেও যথেষ্ট সহযোগিতা পান না। নিখোঁজদের পরিবারের অনেকের অভিযোগ রয়েছে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তাদের স্বজনদের নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়, এমন কী বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের আর খোঁজ মেলে না।
নূর খান লিটন আরো বলেন, একের পর এক এসব ঘটনা ঘটছে। রাষ্ট্র দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আর এ পদক্ষেপ গ্রহণ না করার কারণেই অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। আইনের ঊর্ধ্বে থেকে যাচ্ছে। এতে জনগণের মধ্যে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সন্দেহ দেখা যাচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে প্রশিক্ষিত বাহিনীর কোনো অংশের সংশ্লিষ্টতা থাকায় সন্দেহ পোষণ করছে। তাই অবিলম্বে একটা আস্থাভাজন, নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করে গুম, অপহরণ ও নিখোঁজের সব ঘটনার তদন্ত এবং যারা এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নুরুল হুদা গণমাধ্যমকে বলেছেন, "অভিযোগ যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে সেগুলো খুজে বের করা যায়। তবে নিখোঁজের এসব ঘটনাগুলো সত্যিই উদ্বেগজনক।"
প্রাবন্ধিক ও কলামিষ্ট ফরহাদ মজহারের আলোচিত ঘটনার পর এবং পূর্বে সাড়ে তিন বছরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজের পর পরিবারের কাছে ফিরে আসা ব্যক্তিরা (২৭ জন) পরিবার কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিখোঁজের বিষয়ে কোনো কথা না বলেই মুখে কুলুপ আটেন। এসব ঘটনা গুলোতে অনেক ক্ষেত্রে কিছু অভিন্ন ছক বা মিল লক্ষ করা যায়। অপহৃত ব্যক্তিদের একটি বড় অংশকে অপহরণের পর ‘উদভ্রান্ত’ অবস্থায় কোনো না কোনো সড়কে পাওয়া যায়। কিন্তু ফিরে আসার পরই তারা কোনো কথা মনে করতে পারেন না। রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ বা অপহরণের শিকার এসব ব্যক্তিদের স্বজনরা কখনো কখনো গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ফিরে আসার পর নিখোঁজ ব্যক্তিরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বলেন, চোখ বেঁধে তাঁদের মাইক্রোবাসে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। যে কারণে তারা ফিরে আসার পর কাউকেই ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত কিছুই জানাতে পারেন না। এছাড়া কেউ কেউ পুরো বিষয়টিই চেপে যাচ্ছেন। নিখোঁজ হওয়া থেকে বেরিয়ে এসে বলছেন, কিছুই হয়নি। অথবা অন্য এমন কোনও কথা বলছেন যা কারোই বিশ্বাস হচ্ছে না।
শীর্ষনিউজ২৪ডটকম/ইই