বৃহস্পতিবার, ১৯-এপ্রিল ২০১৮, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন

দেশে ‘ভয়ঙ্কর রূপ’ নিয়েছে শিশু ধর্ষণ-হত্যা

sheershanews24.com

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০৭:০৭ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : বরিশালের উজিরপুরে ঘরে ঢুকে এক শিশুকে চোখ বেঁধে গণধর্ষণ করেছে প্রতিবেশী দুই বখাটে। ওই শিশু স্থানীয় একটি স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। স্কুল থেকে ফেরার পর ৩১ মার্চ দুপুর আড়াইটায় পিতা-মাতা বাড়িতে না থাকার সুযোগে নির্জন বাড়ির বসত ঘরে ঢুকে দুই বখাটে মিলে ছাত্রীকে চোখ বেঁধে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে গণধর্ষণ করে।

একইভাবে লক্ষ্মীপুরের রশিদপুরে গত ২৭ মার্চ ষষ্ঠ শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ করে দুই প্রতিবেশী। আর রাজধানীর পল্লবীতে ৪ মার্চ এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে মামাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় চলতি বছরেরি একই সময়ে শিশু ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে। তবে ধর্ষণের পর হত্যার সংখ্যা ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে।   

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা- শিশু অধিকার ফোরামের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের প্রথম তিনমাসের ধর্ষণের শিকার হয় ১৪৫ শিশু। আর চলতি বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৬ জনে। অর্থাৎ প্রতিমাসে গড়ে ধর্ষণের শিকার হয় ৫৫ জন শিশু।

এই তিন মাসে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৫ শিশুকে। এর আগের বছরের জানুয়ারি-মার্চে শিশু ধর্ষণের পর হত্যার কোনো ঘটনা ছিল না। তবে পুরো বছরজুড়ে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছিল ২২ শিশু। সেই হিসাবে ধর্ষণের পর হত্যার সংখ্যা নতুন বছরে আশঙ্কাজনক।

একই তালে নানা বয়সের নারী ধর্ষণ, গণধর্ষণ, হত্যা, যৌন হয়রানিমূলক ঘটনা দেশে বেড়েই চলছে। এ অবস্থায় আইনের কঠোর প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা বাড়নোর ওপর জোর দিচ্ছে মানবাধিকার কর্মী ও মনোবিজ্ঞানীরা।

ধর্ষণের ঘটনা তদন্তে আইনশৃঙ্খালা বাহিনীর গাফিলতি আছে বলেও মনে করছে মানবাধিকার কমিশন। এ ধরনের ঘটনার বিচার নিশ্চিতে কমিশন ভূমিকা রাখতে আগ্রহী হলেও আইনি সীমাবদ্ধতায় তা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি সংস্থার চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।

অন্যদিকে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি শিশু ধর্ষণ কমাতে অপরাধীর মনস্তাত্বিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ প্রসঙ্গে শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারম্যান এমরানুল হক চৌধুরী শিশুর নিরাপত্তায় অভিভাবকদের আরো সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

জনসচেতনা, নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি আইনের প্রয়োগসহ সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের যত্নবান হওয়ার পরামর্শ আরেক বিশেষজ্ঞ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেখলা সরকারের।

এই বিশেষজ্ঞরা মেনে করেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যার এই পরিসংখ্যান কমাতে সবার সচেতনার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় সামাজিক এ অপরাধ রোধ করা তো দূরের কথা এতে লাগাম পরানোও সহজ হবে না।

শীর্ষনিউজ/এইচএস