সোমবার, ২৫-সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন

নির্বাচন কবে হবে কীভাবে হবে?

প্রকাশ : ১০ জুলাই, ২০১৭ ০৬:৪৭ অপরাহ্ন

শীর্ষ কাগজের সৌজন্যে: বর্তমান জাতীয় সংসদের যদিও গ্রহণযোগ্যতা বিদেশি বা দেশের সাধারণ মানুষ- কারো কাছেই নেই তবু এ সংসদ নির্ধারিত মেয়াদ ২০১৯ সাল পর্যন্ত থাকবে- এটা অনেকেই মনে করেন। এর কারণ, আওয়ামী লীগ ‘নির্বাচন’ ‘নির্বাচন’ খেললেও কোন ক্রমেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ক্ষমতা ছাড়ার মতো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। শুরুতে আওয়ামী লীগ মনে করেছিলো অনুকূল আবহাওয়ায় খুব সহজেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে আরেকবারের মতো ক্ষমতা পাকাপোক্ত করে নেয়া যাবে। সাগরের কূলে স্নান করে ৫ জানুয়ারির যা কিছু গন্ধ আছে সেটিও মুছে ফেলা যাবে। সবকিছু নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখেই সাগর পাড়ি দেয়া যাবে। কিন্তু, এখন দেখছে, আবহাওয়া চরম বৈরি, পানি ঘোলাটে। রাজনীতিতে ঘুর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস। এ অবস্থায় নিরাপদে তো নয়ই, সাগরে নামলে নৌকা আদৌ আর তীরে ভীড়াতে পারবে কিনা সেই ভয় চরমভাবে পেয়ে বসেছে। এর অবশ্য যুক্তিসঙ্গত অনেকগুলো কারণও রয়েছে।

এদিকে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি এখন আর মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের উপর চাপ দিচ্ছে না। বরং তারা ভেতরে ভেতরে এই দেড় বছর ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করতে চায়। সরকারের মেয়াদ একেবারে শেষ পর্যন্ত নিয়ে ঠেকাতে চায়। কারণ, এখন দিন যতই যাচ্ছে তাতে সরকারের ভেতরে নানান সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। অন্যদিকে বিরোধীদল, বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত শক্তি অর্জন করছে।

অবশ্য, এসব হিসাব-নিকাশের পরও মাঠে-ময়দানে এমন একটা আবহ তৈরি হয়েছে নির্বাচন যেন ঘনিয়ে এসেছে। বলা হচ্ছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যে কোনো সময় নির্বাচন দিতে পারে সরকার। শুধুমাত্র সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। অধিকাংশ আওয়ামী লীগ নেতার মতে, তারা শেষ সময় পর্যন্ত যাওয়ার পক্ষপাতী নয়। আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচনে যেতে চান তারা। এমনকি সম্ভব হলে তারও আগে নির্বাচনে নামতে পারেন। কারণ, ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগ বুঝে ফেলেছে সুবিধাজনক অর্থাৎ সোনালী সময়গুলো তারা ইতিমধ্যেই পার করে ফেলেছেন। হেলায় সময় নষ্ট করেছেন, যা উচিত হয়নি।

আওয়ামী লীগের ভেতরে একটা সুপ্ত বাসনা এবারও ছিলো একতরফা নির্বাচন করার। কিন্তু, সেই আশায় সম্ভবত ‘গুড়ে বালি’ দেখা যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় মিত্র ভারত এবার আর একতরফা নির্বাচনে সহযোগিতা তো করবেই না, এমনকি তারা এ বিষয়ে বাধা দেবে। ভারতের পক্ষ থেকে সরাসরি বলে দেয়া হয়েছে, নির্বাচন ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার’ হতে হবে। অতীতের অপরাধের দায় তারা আর বয়ে বেড়াতে চায় না। এদিকে পশ্চিমারাও এবার অতি মাত্রায় সতর্ক। গতবার পশ্চিমাদের ‘ডুয়েল রোল’ আর ভারতের একচেটিয়া সমর্থনের কারণেই যে আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে একতরফা নির্বাচন করা সম্ভব হয়েছিলো- এটা সবাই জানে।

‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার’

বিদেশিরা বলছে, আবার এদিকে সরকারের তরফ থেকেও তাদের দলীয় ফোরামে দফায় দফায় বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচন ২০১৪ সালের মতো হবে না। এমনকি বর্তমান নির্বাচন কমিশনও গত ৩১ মে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে, এবারের নির্বাচন ৫ জানুয়ারি বা ১৫ ফেব্রুয়ারির মতো হবে না। ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচন হবে। কিন্তু, কীভাবে, কোন পদ্ধতিতে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচন হবে- এটা কেউ খোলাসা করে বলতে পারছেন না বা বলছেন না। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচন হবে। আবার তারা এও বলছে, নির্বাচন হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হলে সেটি যে কী রকমের, কতটা ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার হবে সেই প্রমাণ আওয়ামী লীগ ইতিপূর্বে অনেকবার দেখিয়েছে। কাজেই সাধারণ মানুষের কাছে এটি আর ব্যাখ্যা করে বলার প্রয়োজন হচ্ছে না।

তবে বিএনপি ইদানিং বেশ জোর দিয়ে বলছে, শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচন হবে না। সে রকমের কোন নির্বাচনের চেষ্টা করা হলে তাতে তারা যাবে না এবং যে কোনো মূল্যে তা প্রতিহত করা হবে। বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বিএনপি নেতারা কথাগুলো বলছেন। বিএনপির এ আত্মবিশ্বাসের ভিত্তিটাই বা কী? এমন কৌতুহল দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

বিএনপি-জামায়াত হঠাৎ করে কী এতো শক্তি অর্জন করলো যে, তারা আওয়ামী লীগের একতরফা নির্বাচন প্রচেষ্টা ঠেকাতে পারবে? অতীতে পূর্ণ শক্তি নিয়েও যা তারা পারেনি, এখন কীভাবে পারবে?

অবশ্য বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বরাবরই এখানকার রাজনীতি বিদেশিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। এবং প্রত্যেকটি রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ ছিলো স্পষ্ট। এবারও তাই মনে করা হচ্ছে, ভেতরে ভেতরে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। সতর্ক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এমনটাই আঁচ করছেন।

ভারতের ভূমিকা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব বরাবরই বেশি ছিলো। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে ভারত যেভাবে প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ করেছে অতীতে স্বাধীনতার পর এমনটি আর দেখা যায়নি। বলতে গেলে অনেকটা জোর করেই তৎকালীন ভারতীয় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার বর্তমান আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে একতরফা ভূমিকা রেখেছে। সেই থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে বরাবর একটা আত্মবিশ্বাস কাজ করছে যে, ভারতের সামনে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর বিকল্প নেই। ভারতের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যারাই আসুক না কেন, আওয়ামী লীগকেই বেছে নিতে হবে। এর যুক্তি হিসেবে তারা বলে আসছে, ভারতের অভ্যন্তরে বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপগুলোকে দমনের জন্য আওয়ামী লীগই একমাত্র বিশ্বস্ত। এ ব্যাপারে বড় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়, বিএনপি আমলের ১০ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়াটাকে।

কিন্তু সেই ১০ ট্রাক অস্ত্র আসলে কোথা থেকে এসেছিলো, কীভাবে, কী উদ্দেশ্যে এসেছিলো সেটি এখনো রহস্যই রয়ে গেছে। তৎকালীন বিএনপি সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা এই অস্ত্রের চালানের ব্যাপারে আসলে আগাম কিছু জানতেন কিনা তা এখনো পরিষ্কার নয়। তাছাড়া ইতিমধ্যে নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। বিএনপির অনেক শিক্ষা হয়ে গেছে। এখন আর সেই ভুলের পথে তারা নেই, এটা সবাই বোঝেন ভারতীয়রাসহ সকলে। তাছাড়া আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা যে নিচের পর্যায়ে নেমে এসেছে তাদেরকে সমর্থন করাটা বিপজ্জনকই বটে। ভারত ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছে, এখানে যারাই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে তাদের কথা শুনতে হবে, সেটি বিএনপি-আওয়ামী লীগ বা অন্য কোন দলই হোক না কেন। তাই যাদের জনপ্রিয়তা থাকবে তাদেরই তারা সমর্থন দেবে। অজনপ্রিয় দলকে একেচেটিয়াভাবে সমর্থন দেয়াটাই বরং বিপদ। বাইরের অন্য কেউ এর সুযোগ নিতে পারে। আর তাই বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই ঘোষণা দিয়েছিলো, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে তারা থাকবে। জনগণ যাকে চাইবে তারাও তাকে সমর্থন দেবে। যতোটা জানা যায়, সেই নীতিই এখন তারা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। আর এটাই আওয়ামী লীগের জন্য বিপদের কারণ।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ নেতাদেরকে বিভিন্ন সময়ে ভারত সফরকালে সে দেশের সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে আমরা ক্ষমতায় রেখেছি। আর এভাবে নয়। এরপর ক্ষমতায় থাকতে হলে নিজেদের জনপ্রিয়তার জোরেই ক্ষমতায় থাকা যাবে। আওয়ামী লীগ নেতারাও এটা মেনে নিয়েছিলেন। তারা ভেবেছিলেন, অতিরিক্ত এই টার্ম ক্ষমতায় থাকতে পারলে সবকিছু আয়ত্বে চলে আসবে। নিজেদের পারফরমেন্সেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া যাবে। কিন্তু এখন দিন যতই যাচ্ছে অন্ধকার দেখছেন। মনে করা হচ্ছে, আরেকটি ৫ জানুয়ারি ছাড়া পার পাওয়া যাবে না। অথচ সেই ৫ জানুয়ারির বিরোধী এখন খোদ ভারতই।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ আরেকটি একতরফা নির্বাচনের মানসিকতা নিয়েই এগুচ্ছিলো। তারই মধ্যে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রধান নিরাপত্তা উপদেষ্টা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই মর্মে পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে, আরেকটি ৫ জানুয়ারির নির্বাচন হতে পারবে না। বাংলাদেশে এবারের নির্বাচন হতে হবে ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার’। গত মার্চ মাসের মাঝামাঝির ঘটনা এটি। আর তখনই সরকারের মধ্যে ছন্দপতন ঘটে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। তিনি ২১ মার্চ মাগুরায় এক জনসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেন, ২০০১ সালে ‘র’-আমেরিকা এক হয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছিল। তার এমন অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যে রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ সকল মহলই তখন ভ্যাবাচেকা খেয়ে যান। বস্তুত, প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে অন্য ইঙ্গিত ছিল। তিনি এ কথা দ্বারা এটা বোঝাতে চেয়েছেন যে, এখনো ‘র’ এবং আমেরিকা একই পরিকল্পনা নিয়েছে।

‘প্রধানমন্ত্রী যে কোন পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন’

সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দলের অভ্যন্তরীণ একাধিক বৈঠকে এবারের পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্কবাণী দিলেও আওয়ামী লীগের অনেক নেতা এখনও এটিকে গায়ে মাখাতে রাজি নন। তাদের ধারণা, যত সমস্যাই আসুক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা সামাল দিবেন। তারা সরাসরিই এমন দাবি করেন, শেখ হাসিনা সব সমস্যা মোকাবেলা করতে সক্ষম। এমন আত্মবিশ্বাসের কারণ সম্ভবত দু’টি। এক, ২০১৪ সালের নির্বাচনকালীন কঠিন সময় অতিক্রম। দুই, ২০১৫ সালের তিন মাসের দীর্ঘ আন্দোলন দমন।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় বলেছেন, ২০১৪ সালে কীভাবে পার করে এনেছি তা আমিই একমাত্র জানি। এখন আর আমি তা পারবো না।

বাস্তবে ওই সময় দেখা গেছে, সরকারের ডাকসাইটে কর্মকর্তারা, এমনকি আওয়ামী লীগ নেতারাও অনেকে বিদেশ পালিয়ে যাচ্ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে বিদেশ যেতে দেননি। বলেছেন, কোন সমস্যা হবে না। সেই পুরো পরিস্থিতি তখন নেপথ্য থেকে সামাল দিয়েছিল পার্শ্ববর্তী দেশের গোয়েন্দা সংস্থাটি। তাদেরই ছিল সেই ঘটনার পুরো কৃতিত্ব। তখনকার পরিস্থিতি আর এখনকার পরিস্থিতি যে সম্পূর্ণ ভিন্ন, এটা আওয়ামী লীগ নেতারা অনেকে বুঝতেই চাইছেন না।

নির্বাচন ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা

সাধারণত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয় না, এটা সবাই বলে থাকেন। তবে নির্বাচনকেন্দ্রীক রাজনীতিতে এবার কী ঘটবে কেউ এখনই আগাম পূর্বাভাস দিতে রাজি নন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি দেখার জন্য নির্বাচন ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। যা ঘটার সবকিছু তারমধ্যেই ঘটে যাবে। বিএনপি এখন আন্দোলনের যত কথাই বলুক না কেন, গতবারের মতো আগাম আন্দোলনে নেমে কোন শক্তিক্ষয় তারা করবে না। দু’টি পরিস্থিতিতে তারা মাঠে নামবে- এক, বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে। দুই, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হলে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সর্বশেষ এক বক্তৃতায় ‘সহায়ক সরকার’ শব্দটি মেনে নিয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, সহায়ক সরকারের প্রধান থাকবেন শেখ হাসিনা। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। শেখ হাসিনা নির্বাচনে সহায়ক সরকারের দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে একই সময়ে তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘লিখে রাখেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে বিএনপি যাবে।’

অবশ্য, বিএনপি নেতারা দুই মন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে ‘কথার কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হলে এর ফলাফলের জন্য নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। ফলাফল কী হবে সেটি আগেই জানা যাবে। সেই অর্থহীন নির্বাচনে বিএনপি কখনও যাবে না এবং এবার সেই নির্বাচন হতেও পারবে না। আগামী ৩০ জুলাই শুরু হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ। বিএনপি পজেটিভলি এ সংলাপে যোগ দেবে। তবে তাদের মূল লক্ষ্য থাকবে নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার। সহায়ক সরকারের রূপরেখাও শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।