শুক্রবার, ২০-অক্টোবর ২০১৭, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

হজ নিয়ে নানান তেলেসমাতি দুর্নীতি-প্রতারণা

sheershanews24.com

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর, ২০১৭ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন

শীর্ষ কাগজের সৌজন্যে: হজযাত্রী প্রাক-নিবন্ধন থেকেই শুরু হয় দুর্নীতি। এমন কিছু মাফিয়া চক্র আছে যারা পুরো হজ কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এদের প্রত্যেকের ১২/১৪টি করে হজ লাইসেন্স বিভিন্ন নামে আছে। পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের নামে এ হজ লাইসেন্সগুলো নিয়ে রেখেছে। এসব হজ লাইসেন্সগুলোর আলাদা অফিস নেই, কাঠামো নেই। নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে এদেরকে লাইসেন্স দেয়া হয়নি। নীতিমালার শর্ত ব্যাপকভাবে লঙ্ঘন, জাল-জালিয়াতি ও ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে এসব লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে। আর এসব ভুয়া লাইসেন্সধারীরাই মাফিয়া হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে, যে যেভাবে পারছে হজ যাত্রীদের সঙ্গে পদে পদে প্রতারণা করছে, ঠকাচ্ছে এবং কষ্ট দিচ্ছে। হজ এজেন্সি ছাড়াও গত কয়েক বছরে নতুন করে তৈরি হয়েছে আদম ব্যবসার মতো মধ্যসত্বভোগী দালাল। হজ এজেন্সিসহ ধর্ম মন্ত্রণালয়, বিমান মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিমানসহ হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরকারি যেসব দফতর বা সংস্থা জড়িত এরা প্রত্যেকেই আদম ব্যবসার মতো একই সিন্ডিকেটের সদস্য। আর এ কারণেই প্রতি বছর হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে এতো কেলেংকারি হচ্ছে। বলা যায়, এই সিন্ডিকেটের কাছে এক রকমের জিম্মিই হজ যাত্রীরা। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে হজ কেলেংকারি থেকে কখনো বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে না এবং এরজন্য প্রয়োজন সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ও সদিচ্ছা।
ভুয়া ও প্রতারক হজ এজেন্সি
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারাবিশ্বে মোট প্রায় ৩ হাজার হজ এজেন্সি আছে। তারমধ্যে অর্ধেকেরই বেশি বাংলাদেশে আছে এবং এসব এজেন্সির অধিকাংশই অস্তিত্বহীন বা ভুয়া। একই ব্যক্তি বিভিন্ন নামে এজেন্সির লাইসেন্স নিয়ে রেখেছে প্রতারণা ব্যবসা করার জন্য। ফলে দেখা যাচ্ছে, এই এজেন্সিগুলোর হজযাত্রী প্রাক নিবন্ধন প্রক্রিয়া থেকেই দুর্নীতি শুরু হয়।
এসব ভুয়া এজেন্সি মালিকদের যেহেতু একেক জনের ১২/১৪টি করে লাইসেন্স আছে তাই অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে কোনও একটি লাইসেন্সকে কালো তালিকাভুক্ত অথবা জরিমানা করা হলে বাকি এজেন্সিগুলো দিয়ে সে আরো ব্যাপকভাবে প্রতারণা ব্যবসায় নামে। যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা উশুল করার জন্য বেশি ব্যবসা করার প্রতিযোগিতায় থাকে। এছাড়া অনেক সময় দেখা যায়, ৩/৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হলেও সেটি তাদের গায়ে লাগে না। কারণ, প্রতারণার মাধ্যমে সে ইতিমধ্যে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে। আবার অনেক সময় দেখা যায়, জরিমানার টাকাও পরিশোধ করে না। হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করে জরিমানা ও ব্ল্যাক লিস্টের আদেশ স্থগিতের ব্যবস্থা করা হয়।  
এরকমের একজন ভুয়া হজ এজেন্সির মালিক চলতি বছর হজ মৌসুম শুরুর আগে তার ১০টি এজেন্সির লাইসেন্স ১০ কোটি টাকা বিক্রি করে বসে ছিলেন। শুধু এই ব্যক্তিই নয়, এ রকমের ঘটনা আরও আছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। এভাবে যারা হজ লাইসেন্স ক্রয় করছেন তাদেরকে এই অর্থ তুলে সেটির উপর আবার ব্যবসাও করতে হয়েছে। আর এ কারণেই তাদেরকে ব্যাপকহারে দুর্নীতি-প্রতারণা ব্যবসায় নামতে হয়েছে।
হজ নীতিমালায় যদিও হজ লাইসেন্স এভাবে হস্তান্তর করা, ভাড়া দেয়া বা ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু, কেউই নীতিমালা মানছে না। তবে এটা দেখারও কেউ নেই। নীতিমালা মানা হচ্ছে কিনা, এটি যারা দেখার কথা তারাও তো ঘুষ লেনদেন ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, হজ ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু করার স্বার্থে শুরুতেই যে পদক্ষেপটি নিতে হবে তা হলো, প্রত্যেকটি হজ এজেন্সি ভেরিফিকেশন করতে হবে। নীতিমালা অনুসরণ করে লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল কিনা, যেসব নামে হজ এজেন্সির লাইসেন্স দেয়া হয়েছে এগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব আছে কিনা, একই ব্যক্তির নামে-বেনামে একাধিক লাইসেন্স আছে কিনা প্রভৃতি যাচাই করতে হবে। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট টিম গঠন করে পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রত্যেকটি লাইসেন্সের সঠিকতা নির্ণয় করতে হবে। এছাড়া যেসব লাইসেন্সের বা লাইসেন্সধারী ব্যক্তির দুর্নাম আছে, অতীত রেকর্ড ভালো নয় সেগুলো সম্পর্কে হজযাত্রীদেরকে সতর্ক ও সচেতন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী প্রধান উপদেষ্টা হলেও
জাতীয় হজ ব্যবস্থাপনা কমিটি নামে একটি কমিটি আছে। এই কমিটির প্রধান উপদেষ্টা পদে রাখা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। জাতীয় হজ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রতি বছর অন্তত: একটি সভা প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বা তাঁর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হলে এর গুরুত্ব অনেক বেড়ে যেতো। হজ ব্যবস্থাপনায় এরকমের অনিয়ম-দুর্নীতি হওয়ার সুযোগও কম থাকতো। সংশ্লিষ্ট সকলেই নিয়ম-শৃঙ্খলার প্রতি কিছুটা হলেও বেশি গুরুত্ব দিতো। কিন্তু কোনও বছরেই এই কমিটির সভা আহ্বান করা হয় না। গত বছর এই কমিটির বৈঠক ডাকার জন্য সচিব হয়ে বার বার ফাইল উপস্থাপন করা হলেও মন্ত্রীর কাছে গিয়ে তা আটকে যায়। মন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবেই এ সভাটি আটকে দেন। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক হলে মন্ত্রণালয় এবং নিজেদের দুর্নীতি-অনিয়মের সুযোগ কমে যেতে পারে।
ঘরভাড়া
সরকারি ব্যবস্থাপনায় যেসব হজযাত্রী যায়, এদের ঘরভাড়াকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই ব্যাপক অনিয়ম হয়। বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি এদেশ থেকে গিয়ে মক্কা-মদীনায় ঘরভাড়ার দালালিতে নেমে পড়েন। ধর্ম মন্ত্রণালয়কে তাদের পছন্দের ঘরভাড়া নিতে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ এবং অর্থের লেনদেনও করে থাকেন। ঘরভাড়ার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যারা সৌদি আরবে যান এরাও এসব দালালির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। এই ঘরভাড়া বাবদ প্রতি বছর বড় ধরনের অনিয়ম হয় এবং এতে মোটা অংকের লেনদেন হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। যার কূফল পড়ে হাজীদের উপর। দূরে, খারাপ পরিবেশে, খারাপ স্থানে, পাহাড়ের উপর তাদেরকে থাকতে হয়।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজে নিবন্ধন কার্যক্রম থেকে যে অনিয়ম ও প্রতারণা শুরু হয় তা চূড়ান্ত রূপলাভ করে ঘরভাড়ায়। হজ যাত্রীদের যেসব কমিটমেন্ট দিয়ে সৌদি আরব নিয়ে যাওয়া হয় তারা সেখানে গিয়ে দেখেন সেগুলোর কিছুই ঠিক নেই। সবচে’ বড় ভোগান্তিতে পড়েন থাকা-খাওয়ায়। কিছু বলেও কাজ হয় না। মুখ বুঁজে সবই হজম করতে হয় হজ যাত্রীদেরকে।   
রিপ্লেসমেন্ট
হজ এজেন্সিগুলোর এটি একটি বড় রমরমা ব্যবসা। যেসব ব্যক্তি হজের উদ্দেশ্যে প্রাক-নিবন্ধনে নাম লেখান তাদের অনেকেরই পরে হজ কপালে জুটে না। অনেক কষ্টে এরা এজেন্সির চাহিদামত অর্থ যোগাড়সহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্নের পর হঠাৎ এক পর্যায়ে শোনেন, লটারিতে তার নাম বাদ পড়ে গেছে। বাস্তবে লটারি নয়, সংশ্লিষ্ট এজেন্সি জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজে-কলমে তাকে অসুস্থ দেখিয়ে তার পরিবর্তে অন্য একজন, যিনি শেষ মুহূর্তে এসে হজে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে বেশি অর্থ দিয়েছেন তাকেই অবৈধভাবে নিয়ে নেয়। এ ব্যাপারে ভুয়া মেডিকেল সর্টিফিকেট জমা দেয়া হয়।
এ বছর এরকমের ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি, বাড়ি রংপুর, তিনি আশকোনা হজ ক্যাম্পের এক অফিসারের কাছে এসে বললেন, স্যার, কারো কাছে অভিযোগ করে তো কোনও লাভ হয় না। শুনলাম, আপনার কাছে অভিযোগ করলে ফল পাওয়া যেতে পারে। তাই সাহস করে এসেছি। এই ব্যক্তি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, স্যার, গরু-ছাগল বিক্রি করে অনেক কষ্টে টাকা যোগাড় করে হজ এজেন্সিকে টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু পর পর দু’বছর চেষ্টা করেও হজে যেতে পারিনি। এ বছরও শেষ মুহূর্তে বাদ দেয়া হয়েছে। কেন নাম কাটা হলো তিনি জানেন না। অফিসারটি পরে খোঁজ নিয়ে দেখলেন সংশ্লিষ্ট এজেন্সি তাকে অসুস্থ দেখিয়ে সার্টিফিকেট জমা দিয়েছে। অথচ, তিনি পুরো সুস্থ্য। অসুস্থতার মেডিকেল সার্টিফিকেটে যে ফোন নম্বর দেয়া আছে তাতে ফোন করে দেখেন সেটি একটি ভুয়া ফোন নম্বর। অর্থাৎ পুরো মেডিকেল সার্টিফিকেটটিই ভুয়া। এই ব্যক্তি হজের জন্য প্যাকেজের নির্ধারিত অর্থ জমা দিয়েছিলেন। হজ এজেন্সি অন্য আরেকজনের কাছ থেকে বেশি টাকা পেয়ে তাকেই রিপ্লেস করার জন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছে।
হজ ব্যাগ
হজ ব্যাগ সরবরাহেও একটা বড় অংকের ব্যবসা হয় প্রতি বছর। ব্যাগের নির্ধারিত সাইজ এবং ডিজাইন সম্পর্কে হজ নীতিমালায় বলা আছে। কিন্তু আবার হজ নীতিমালায় একথাও বলা আছে, এসব ব্যাগ সরবরাহ করবে হাব। এখানেই ঘাপলা। এজেন্সিগুলো প্রত্যেকেই নিজেরা আলাদাভাবে ব্যাগ সরবরাহের দায়িত্ব পালন করতে পারতো। তাতে হয়রানি কম হতো। এজেন্সিগুলোর নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে দামও কম পড়তো, ভালো মানের ব্যাগও পাওয়া যেতো। কিন্তু, তা না করে কেন্দ্রীয়ভাবে হাব-কে ব্যাগ সরবরাহ করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এতে প্রতি বছরই নানা রকমের সমস্যা তৈরি হয়। বস্তুত, ব্যাগ সরবরাহে একটা বড় রকমের ব্যবসা জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ব্যাগে কয়েকশ’ টাকা করে কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা হয় এতে। লাভের এই টাকা ভাগাভাগি হয়।
বিমানের টিকেট কেলেংকারি
যদিও অন্যান্য অনেকেই, এমনকি অমুসলিম দেশেও হজযাত্রী পরিবহনসহ পুরো হজ প্যাকেজে একটা বড় রকমের ভর্তুকি দেয়া হয়, কিন্তু বাংলাদেশে এর উল্টো। বাংলাদেশে প্রতি বছর হজ যাত্রীদের উপর যে বিমান ভাড়া নির্ধারণ করা হয় তাতে বড় অংকের লাভের হার চাপিয়ে দেয়া হয়। বিমান টিকেট নিয়ে এর বাইরেও আবার অনেক রকমের অনিয়ম-প্রতারণা হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ থেকে যত হজযাত্রী সৌদি আরবে হজ করতে যাচ্ছে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী তার অর্ধেক পাচ্ছে সৌদি এয়ারলাইন্স, বাকি অর্ধেক বাংলাদেশ বিমান। কাজেই ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল হলে সৌদি এয়ার এবং বিমানের সমান সংখ্যক বাতিল হওয়ার কথা। অথচ এ বছর দেখা যাচ্ছে, সোদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে মাত্র ২টি, অন্যদিকে বাংলাদেশ বিমানের বাতিল হয়েছে ২৭টি। এর কারণ কী?
প্রায় ১৬০০ হজ এজেন্সির মধ্যে এ বছর ৬৩৯টি হজ এজেন্সিকে বৈধতা অর্থাৎ কাজের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এই এজেন্সিগুলোর মধ্যে মাত্র ৮০/৮৫টি এজেন্সির কাছে বাংলাদেশ বিমান তাদের সবগুলো টিকেট বিক্রি করে দিয়েছে। ফলে অন্য এজেন্সিগুলো টিকেট কিনতে পারেনি। তারা এক রকমের জিম্মি হয়ে পড়েছিল এই ৮০/৮৫টি এজেন্সি সিন্ডিকেটের কাছে। প্রতি বছরই এমনটি ঘটছে। অন্য এজেন্সিগুলো বিমানের টিকেট এই সিন্ডিকেট এজেন্সির কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হয়েছে।
এছাড়া আরো যে সমস্যা দেখা দিয়েছে তা হলো, যেসব টিকেট ব্যবহার হয়নি সেগুলো ফেরত নিয়েছে বিমান, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। দেখা গেছে, যে মাফিয়া এজেন্সিগুলো বিমানের সব টিকেট হাতিয়ে নিয়েছে তারা আসলে টিকেটের সব টাকা পরিশোধ করেনি। কিছু টাকা নিজের পকেট থেকে দিয়েছে, কিছু ব্যাংক থেকে দিয়েছে, এছাড়া টিকেটের মূল্যের অন্য একটি বড় অংশ বাকি রেখেছে। এ কারণে মাফিয়া এজেন্সিগুলো নিজেদের কোন ক্ষতি বা জরিমানা ছাড়াই টিকেট ফেরত দিতে পেরেছে। বিমানও তা নিতে বাধ্য হয়েছে। এতে বিমানের প্রচুর অর্থ ক্ষতি হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত ফ্লাইট যোগ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে।  
অথচ সৌদি এয়ারলাইন্সের টিকেট বিক্রিতে এ ধরনের কোন অনিয়ম নেই। নিয়ম অনুযায়ী তারা সম্পূর্ণ নগদ অর্থেই টিকেট বিক্রি করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন টিকিট ফেরত দেয়া হলে তারজন্য টিকেট প্রতি ১০০ ডলার করে জরিমানা গুণতে হয়। নির্ধারিত সময়ের পর কোনও টিকেট ফেরত নেয়া হয় না। এতে সৌদি এয়ার লাইন্সের কাছ থেকে টিকেট ক্রেতা এজেন্সিগুলো জরিমানার ভয়ে টিকেট ফেরত দেয়ার কথা চিন্তায়ও আনে না। আর তাই সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্ল্যাইট স্থগিত বা বাতিল হয়েছে বাংলাদেশ বিমানের তূলনায় অনেক কম।
দেখা যায়, হজ যাত্রীদের কাছ থেকে যেসব অর্থ হজ এজেন্সিগুলো সংগ্রহ করে তা তারা ব্যাংকে রাখার পর সেই অর্থের বিপরীতে ব্যাংক থেকে ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করে। অথচ হজ যাত্রীদের এসব অর্থের বিপরীতে কোনও এজেন্সির ঋণ অনুমোদন করা সম্পূর্ণ অবৈধ। নীতিমালায় এ ধরনের ঋণদানকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।    
২ হাজার রিয়ালের অজুহাত কেন উঠলো?
এ বছর একের পর এক যখন হজ ফ্লাইট বাতিল হচ্ছিলো তখন অজুহাত হিসেবে সৌদি কর্তৃপক্ষের উপর দোষ চাপানো হলো। বলা হলো, যেসব হজযাত্রী ইতিপূর্বে হজ করেছে তারা আবার হজ করতে গেলে প্রত্যেককে ২ হাজার রিয়াল অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৫ হাজার টাকা সৌদি কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত দিতে হবে- সৌদি আরবের এমন সিদ্ধান্তের কারণে জটিলতা দেখা দিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ নাকি হঠাৎ করেই এ সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের হজ যাত্রীদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। হজ গমনেচ্ছুরা এটা আগে থেকে জানতেন না। হঠাৎ করে এটি চাপিয়ে দেয়ার কারণে তারা তাৎক্ষণিক টাকা-পয়সা যোগাড় করতে পারেননি। আর সেই কারণে তাদের ভিসা হয়নি। ভিসা না হওয়ায় ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।
অথচ, বাস্তব সত্য হচ্ছে, এই নিয়মটি সৌদি কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করেই চাপিয়ে দেয়নি। এই বছরের হজের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যে হজ চুক্তি হয় তখনই এ ২ হাজার রিয়ালের কথা বলা হয়েছে। শুধু বাংলাদেশই নয়, পৃথিবীর সব দেশের জন্যই এ নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। একই হজ চুক্তি হয়েছে সব দেশের সঙ্গেই। সবাই এ নিয়ম মেনেই হজযাত্রী পাঠিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কাজ করেছে। আগে যারা একবার বা একাধিকবার হজ করেছেন তাদেরকে যে অতিরিক্ত ২ হাজার রিয়াল করে সৌদি কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে একথা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা কাউকে বলেনই নি। সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা, এমনকি হজ কাউন্সিল অফিসের কর্মকর্তারাও এ ব্যাপারে সরকারকে কোনও তথ্য জানায়নি বা আগাম পদক্ষেপ নেয়নি।
প্রশাসনিক টিম, হজ গাইড বা সহায়ক টিম, কারিগরি টিম, ডাক্তার-নার্সদের তালিকা তৈরির উপর ব্যবসা
বিভিন্ন হজ টিমে যাওয়ার জন্য যাদের নাম সিলেক্ট করা হয় তাতে বড় রকমের দুর্নীতি হয়ে থাকে প্রতিবারই। দেখা যাচ্ছে, অনেকে বার বার হজ টিমে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এই তালিকা তৈরি নিয়ে ব্যাপক তদবির হয় এবং অর্থেরও লেনদেন হয়। সৌদি আরবে এক/দেড় মাস কাজ করার জন্য প্রত্যেকে ৫/৬ লাখ টাকা থেকে শুরু করে কেউ কেউ ৭/৮ লাখ টাকা পর্যন্ত পান। আর সেই লোভে তারা জনপ্রতি ৩/৪ লাখ টাকা করে দিয়ে হজ টিমে নাম লেখান। এতে তাদের নিজেদেরও বড় অংকের লাভ থেকে যায়। আবার অন্যদিকে সৌদি আরব সফরের সুযোগ হয়। কেউ কেউ এই সুযোগে বিনা খরচে হজও পালন করে আসেন। যদিও এদের কারোই হজ পালন বৈধ নয়।
বলা হয়ে থাকে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে। আর এই যুক্তিতেই একই ব্যক্তিকে বার বার পাঠানো হচ্ছে। বাস্তবে এক্ষেত্রে কোন অভিজ্ঞতারই প্রয়োজন নেই। বরং দেখা যায়, যারা হজ টিমে যাচ্ছেন এরা অধিকাংশই সেখানে গিয়ে প্রয়োজনীয় সেবা দেন না। তাদের মধ্যে এমন মানসিকতা থাকে যে, ঘুষ দিয়ে এসেছেন। কাজেই সেবা দিতে হবে কেন?
এধরনের ব্যবসা বন্ধ করা উচিত বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন। তাছাড়া এইসব সেবাদানকারী ব্যক্তিদের হজ পালন কড়াকড়িভাবে বন্ধ করা উচিত। ডাক্তার-নার্সদের ক্ষেত্রে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনেই বলা থাকে, তারা হজ করতে পারবেন না। তারপরও তাদের কেউ কেউ চুপিসারে হজ পালন করেন। অন্যান্য টিমের ব্যাপারে প্রজ্ঞাপনে হজ পালনের ব্যাপারে কিছুই উল্লেখ থাকেন না যদিও, তারপরও তাদের হজ পালন বৈধ নয়। কারণ, হজ পালন করলে তারা সেবা দেবেন কীভাবে?
ধর্ম মন্ত্রণালয় বস্তুত নিজেদের অপকর্মে সুবিধা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরকে অবৈধভাবে হজ পালনের সুযোগ দেয়ার জন্য প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়টি উল্লেখ করে না। এটাও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক ধরনের অনৈতিক কাজ। প্রজ্ঞাপনে অনুল্লেখ থাকায় এই ফাঁক-ফোকরে টিমের সবাই হজ পালনের অবৈধ সুযোগ গ্রহণ করেন। এতে আসল হাজীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হন।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, হজ টিমের সদস্য হিসেবে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা যারা সৌদি আরব যান এরা অনেকেই দায়িত্ব পালন করেন না। বরং এদেরকে প্রটোকল দিতেই অনেক সময় ব্যয় হয়ে যায়।
প্রতি ৪৫ জন হজযাত্রীর জন্য একজন হজগাইড নির্বাচন করা হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তিন সদস্যের কমিটি এই হজগাইড নির্বাচন করেন। কিন্তু, এই হজগাইড নির্বাচনেও যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হয় না। হাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তদবিরই হজগাইড নির্বাচনে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আর এর কূফল পড়ে হাজীদের উপর।   
উচ্চ পর্যায়ের ডেলিগেট
হজের সময় ধর্ম মন্ত্রী ও সচিবের নেতৃত্বে প্রতি বছরই হজ ব্যবস্থাপনা দেখার জন্য উচ্চ পর্যায়ের ডেলিগেট সৌদি আরব যায়। এই ডেলিগেটে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা থাকেন। কিন্তু, যে উদ্দেশ্যের কথা বলে এই ডেলিগেটকে নেয়া হয় সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয় না। বরং উল্টো, এই ডেলিগেটকে সেবা-যতœ, প্রটোকল দিতেই অন্যদের ব্যস্ত থাকতে হয়। এতে প্রকৃত হাজীদের সমস্যা হয়।  
সরকারি খরচে হজ?
ধর্মপ্রাণ মানুষকে সরকারি খরচে হজ করানোর কথা বলে প্রতি বছর ৩শ’ ব্যক্তিকে বিনা খরচে হজে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়। বাস্তবে দেখা যায়, এদের অধিকাংশই ধর্মপ্রাণ মানুষ নয়। এবং এরা প্রায় ভিআইপি ধরনের। সাধারণত রাজনৈতিক প্রভাবাশালী ব্যক্তিসহ বিভিন্ন ধরনের ভিআইপি লোকেরাই এ তালিকায় স্থান পায়। এই ৩শ’ ব্যক্তির পেছনে একটি বড় অংকের অর্থ খরচ হয়। এ খরচের টাকাকে সরকারি খরচ বলা হলেও বাস্তবে তা সরকারি খরচ নয়। আসল হজযাত্রীর উপর চাপিয়ে দেয়া হয় পরোক্ষভাবে এই খরচের অর্থ। অথচ দেখা যায়, এদের কারণে আসল বা প্রকৃত হজযাত্রীরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হন। কারণ, হজ ব্যবস্থাপনা টিমসহ সকলেই ব্যস্ত থাকেন এই ৩শ’ ভিআইপিকে সেবা দেয়ার কাজে। এই ফাঁকে আসল হাজীরা সেবা থেকে বাদ পড়ে যান।
এটা সবাই জানেন, হজ তাদের জন্যই ফরজ ইবাদত, যারা আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম। কারও আর্থিক সামর্থ্য না থাকলে তারজন্য হজ ফরজ নয়। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, হজে যেতে হবে নিজের টাকায়। সেদিক বিচেনায় এটা বলা যায় যে, সরকারি খরচের কথা বলে হাজীদের কাছ থেকে নেয়া অর্থে অন্য কাউকে হজে নেয়ার কোনও ধর্মীয় বা আইনগত বৈধতা নেই। এটা আসল হাজীদের সঙ্গে সরকারি প্রতারণারই নামান্তর। এক সময় প্রথমে ৩ জন দিয়ে শুরু হয়েছিল। বর্তমানে তা ৩শ’ জনে উন্নীত হয়েছে এই তালিকায়।
কোটা প্রসঙ্গ
প্রতি বছরই বলা হয়ে থাকে সৌদি আরব কোটা কম দিয়েছে। কোটা কম, তাই আগ্রহী ব্যক্তিদেরকে হজের সুযোগ দেয়া যাচ্ছে না। ফলে হজযাত্রীর তালিকায় নাম উঠানোর জন্য প্রতিযোগিতা চলে।
বাস্তবে সৌদি আরব হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করে না। এই কোটা নির্ধারণ করে ওআইসি। প্রত্যেক দেশের জনসংখ্যা অনুপাতে এই কোটা নির্ধারণ করে ওআইসি। ওআইসির এ সংক্রান্ত নীতিমালা হলো, প্রতি ১ হাজার মুসলমানে ১ জন হজ করতে পারবে।
বাংলাদেশের সর্বশেষ আদমশুমারির সঙ্গে ইউএনডিপির হিসাব বিবেচনায় এনে লোকসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনুযায়ী হিসাব করলে বর্তমানে মোট লোকসংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি। তারমধ্যে প্রায় ১৫ কোটিই মুসলমান। এই হিসাবটি ওআইসিতে জমা দিলেই বাংলাদেশের হজযাত্রীর কোটা বেড়ে দেড় লাখে দাঁড়াবে। কিন্তু, এই কাজটিই করছে না ধর্ম মন্ত্রণালয়। কারণ, কোটা কম থাকলেই তো লাভ বেশি। প্রতিযোগিতা থাকবে। রিপ্লেসমেন্টসহ নানান অবৈধ উপায়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়া যাবে।
শেষদিকে হজযাত্রী নিলে ২ লাভ
এজেন্সিগুলো সবাই মৌসুমের শেষদিকে হজযাত্রী সৌদি নিতে চায়। এ কারণে নানান অজুহাতে তারা টিকেট বাতিল এবং ফ্লাইট বিলম্ব করে। শেষদিকে সৌদি আরব নিলে তাদের দু’টি লাভ হয়। প্রথমত, শেষদিকে যারা হজ করতে যান, এরা প্রথমে সরাসরি মক্কায় চলে যান। এখানে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালন শেষে মদিনায় যান। ওই সময় মদিনায় ভীড় কম থাকে। বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায় অনেক সস্তায়। হজের পরে মদিনা থেকে আর মক্কা যাওয়া যায় না। বিমানের তারিখ নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত মদিনায় থাকতে হয়। এখান থেকে সরাসরি বিমান বন্দরে এসে বিমানে উঠতে হয়।
অন্যদিকে, মৌসুমের শুরুতে যেসব হজযাত্রী সৌদি আরব যান এরা প্রথমে মক্কায় গিয়ে ওমরাহ পালন করেন। তারপর মদিনায় যান। সেখানে ৪০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় পর্যন্ত অর্থাৎ ৮ দিন থাকেন। এ সময় মদিনায় ঘরভাড়া অনেক বেশি থাকে। তারপর এরা আবার মক্কায় এসে থাকেন। মক্কায়ও ঘরভাড়া বেশি পড়ে এ সময়। তাছাড়া এদের থাকা পড়ে বেশিদিন। যে কারণে খাওয়া থাকা বাবদ বেশি টাকা খরচ করতে হয় এদের পেছনে।
দেখা যাচ্ছে, প্রথমত, এরা যখন মক্কায় যান তখন মক্কায় প্রচুর ভীড়ের কারণে ঘরভাড়া বেশি পড়ে। আবার এরা হজের আগে মদিনায় গিয়ে ৮দিন থাকেন, তখন মদিনায়ও ঘরভাড়া অনেক বেশি পড়ে। তাছাড়া মক্কা-মদীনায় যাতায়াত বাবদও এদের পেছনে অনেক টাকা খরচ করতে হয়। শেষের দিকে যারা সৌদি আরব যান তাদের পেছনে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে তূলনামূলকভাবে অনেক কম খরচ করতে হয়। আর এ কারণেই লাভ বেশি করার উদ্দেশ্যে এজেন্সিগুলো সবাই শেষের দিকে হজযাত্রী পরিবহনের দিকে ঝুঁকছে।
চতুর/প্রতারক এজেন্সি মালিকরা ইতিপূর্বে যাদেরকে কথা দিয়েছিলেন কাবা শরীফের কাছে অথবা মদিনায় রওজা শরীফের কাছে ভালো বাসা বা হোটেলে রাখবেন এই প্রতিশ্রুতি তারা হজের পরে পূরণ করেন। এ সময় নামমাত্র ভাড়ায় কাবা শরীফের কাছে অথবা মদিনায় রওজা শরীফের কাছে ভালো বাসা বা হোটেল অত্যন্ত কম দামে ভাড়া পাওয়া যায়।
দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, এজেন্সি মালিকদের অর্থ বাঁচানোর এমন প্রতারণামূলক প্রবণতা থামাতে না পারলে ভবিষ্যতে হজযাত্রী পরিবহন নিয়ে আরো চরম সংকট দেখা দেবে। সবাই চাইবে শেষের দিকে হজযাত্রী পরিবহন করতে। তাতে বিশৃঙ্খলার মাত্রা ক্রমেই চরম আকার ধারণ করবে।
মধ্যসত্বভোগী বা দালালের দৌরাত্ম
হজযাত্রী সংগ্রহকে কেন্দ্র করে হজ এজেন্সি ও হজযাত্রীর মাঝে গত কয়েক বছরে একটি বড় দালাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এলাকাভিত্তিক এই দালাল সিন্ডিকেটই পাড়া-মহল্লা এবং গ্রাম-গঞ্জ থেকে হজযাত্রী সংগ্রহ করে। অনেক মসজিদের ইমাম- মোয়াজ্জিনরাও এমন দালালি কর্মকা-ে যুক্ত হয়ে পড়েছেন। এরা হজযাত্রীদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত থাকে। তাই অনেক ক্ষেত্রে হজযাত্রীরা সরাসরি এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ না করে এদের উপরই নির্ভর করে থাকে। এই সুযোগটিই নেয় দালালরা। এরা এজেন্সির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে দেয় না। অনেক ক্ষেত্রে এরা এজেন্সিকেও জিম্মি করে ফেলে। এদের দৌরাত্ম বন্ধ করা না গেলে প্রতারণা ও অনিয়ম কোনোভাবেই ঠেকানো যাবে না। হজ ব্যবস্থাপনাও সুষ্ঠু করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন অভিজ্ঞমহল।
(সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজে ২০১৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত)