শনিবার, ১৬-ডিসেম্বর ২০১৭, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মোদিকে খোলা চিঠি

sheershanews24.com

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০১:৪১ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ ডেস্ক: ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী ও সমাজকর্মীরা রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। ওই চিঠিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে মিয়ানমারে চলমান সহিংসতার মধ্যে সেখানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত না পাঠানোর আবেদন করা হয়েছে।

ভারতে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে দেশটির সুপ্রিমকোর্টে একটি পিটিশন দায়েরের একদিন আগে গতকাল চিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে। পিটিশনে রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করা হয়েছে। নরেন্দ্র মোদি সরকার সুপ্রিমকোর্টকে বলেছে যে, রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করছে। তারা দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

দুই পৃষ্ঠার চিঠিটি মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন ৫১ জন প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব।

বিশিষ্টজনেরা তাদের আবেদনে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে সহিংসতা ও নির্যাতন চলছে তাকে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে রোহিঙ্গাদের ভারতে থাকতে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।

খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে অমানবিক ঘটনা চলছে। আমাদের প্রতিবেশি বাংলাদেশ প্রায় চার লাখ শরণার্থী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। আমরা ভারত সরকারের ‘অপারেশন ইনসানিয়াত’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সাহায্য পাঠানোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছি। রাখাইন প্রদেশে যখন সহিংসতার আগুন জ্বলছে, সেখানে ওই সহিংসতার ঢেউকে দমন করার জন্য আরও বেশি ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। আমরা ভারতবাসী হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে আপনার কাছে আবেদন জানাচ্ছি। ভারত ওই বিষয়ে নয়া এবং শক্তিশালী ভাবনার সঙ্গে এগিয়ে আসুক। একটি উদীয়মান বিশ্ব শক্তি হিসেবে এটা আশা করা যেতে পারে।

তারা আরো  বলেন, ওই দৃষ্টিভঙ্গিতে কেবলমাত্র রোহিঙ্গা মুসলিমদের সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিয়ে বিবেচনা করতে হবে যা তাদেরকে দেশ থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য করেছে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর পদক্ষেপ কেবল ভারতের মানবতাবাদী নীতি ও ঐতিহ্যের বিরোধী তাই নয়, বরং তাতে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি ভারতের অঙ্গীকারও লঙ্ঘিত হবে। অবশ্যই রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের বাসায় ফিরে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে ফিরে যাওয়া তাদের জন্য কোনোভাবেই ঠিক নয়। মিয়ানমারে যতদিন হত্যা, লুটপাট ও সহিংসতা অব্যাহত থাকবে ততদিন আন্তর্জাতিক আইন তাদেরকে ভারতে থাকার অধিকার দেয়।

এ ব্যাপারে সুশীল সমাজের অনেক সদস্য এবং এমনকি জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনারও ভারতকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোর করে তাদের দেশে ফেরত না পাঠানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

ভারতীয় সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবন বাঁচানোর অধিকার কেবল নাগরিকদের জন্যই নয় বরং প্রত্যেক ব্যক্তিকে দেয়া হয়েছে এবং এজন্য রোহিঙ্গা শরণার্থীদের রক্ষা করা ভারতের সাংবিধানিক কর্তব্য।

বুদ্ধিজীবীদের ওই আবেদনে সই করেছেন- প্রশান্ত ভূষণ (আইনজীবী), শশী থারুর (এমপি), কামিনী জয়সওয়াল (আইনজীবী), হর্ষ মান্দার (সমাজকর্মী) কে সি সিং (সাবেক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত), জে কে পিল্লাই (সাবেক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী), ডি পি ত্রিপাঠি (এমপি), পি চিদাম্বরাম (সাবেক কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী) রাজু রামচন্দ্রন (আইনজীবী)। মজিদ মেমন (এমপি), করণ থাপার (সাংবাদিক), সাগরিকা ঘোষ (সাংবাদিক), অজয় শুক্লা (সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা), নিলাঞ্জন মুখোপাধ্যায় (লেখক ও সাংবাদিক), যোগেন্দ্র যাদব (রাজনৈতিক বিশ্লেষক), জন দয়াল (সমাজকর্মী) প্রমুখ।
শীর্ষনিউজ/এম