বুধবার, ১৩-ডিসেম্বর ২০১৭, ০২:৫৬ অপরাহ্ন
  • অপরাধ
  • »
  • ‘ব্লু হোয়েল’ ফাঁদে কিশোর ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি

‘ব্লু হোয়েল’ ফাঁদে কিশোর ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি

sheershanews24.com

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন

শীর্ষনিউজ ডেস্ক: উত্তেজনাবশত "ব্লু হোয়েল" গেমে ঢুকে এর ট্রেপে পড়েছিল মিরপুরের ওই স্কুলছাত্র। যার ফলবশত এখন সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। তবে সে এই গেমের অন্ধকারে ঢুকে যাচ্ছে বুঝতে পেরে এর ১৪ তম ধাপে খেলা বন্ধ করে দেয়। তবে গেমটি আন্সটল করতে পারেনা দেখে সে তার ব্যবহৃত মোবাইলটি ভেঙ্গে ফেলে। এরপরও মনে শান্তি পাচ্ছিলোনা সে। এজন্যই দুইপাতা ঘুমের ঔষধ খেয়ে ফেলে।

ঢামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে আজ দুপুরে কথা হয় ওই স্কুলছাত্রের সাথে। সে বলে, " আমি দেড়মাস আগে উত্তেজনাবশত "ডার্ক ওয়েব" থেকে "ব্লু হোয়েল" গেমের লিংক বের করি। এর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে মালয়েশিয়ান এক বন্ধুর কাছ থেকে গেমটি সম্পর্কে জানতে পারি। এরপর খেলতে থাকি। তখন গেমটির ইন্সটাকশন পড়ে আমি জানতে পারি যে এই গেম খেলার পরিনতি মৃত্যু। তবুও আমি এর লেভেল ১০ পর্যন্ত যাই। যেখানে আমাকে খুব সহজ সহজ শর্ত দেয়া হয়। তখন শর্তগুলো আমার বেশ মজা লাগছিলো। এরপর যখন আমি ১১ নম্বর স্টেপে যাই তখন তারা (অ্যাডমিন) আমার হাত কেটে তাদেরকে ছবি পাঠাতে বলে। আমি হাত কেটে ছবি পাঠালেও তাতে তারা সন্তুষ্ট হয়না। তারা আমাকে বকাবকি করতে থাকে এবং আরো কঠিন শর্ত দিতে থাকে। তারা আমাকে ছাদের রেলিং দিয়ে হাটতে বলে। তবে আমি তাদের আর কোন শর্ত পূরন করতে পারছিলাম না। তখন গেমটি আন্সটল করতে চাই। তবে কিছুতেই হচ্ছিলো না। পরে মোবাইলটি ভেঙ্গে ফেলি।"

সে দাবি করে, তার এই গেমের প্রতি এখন আর কোন ইন্টারেস্ট নেই। বাংলাদেশের আর কেউ এই গেমটি খেলতে পারবেনা। এর লিংকটি ডার্ক ওয়েব থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে যারা এখনও গেমটি খেলছে তাদের মৃত্যু অবধারিত। তাকে এই গেম অনেক পেইন দিয়েছে।

ওই স্কুলছাত্রের জানা মতে তার পরিচিত কেউ এই গেমে আসক্ত নেই। তবে তার কাছে অনেকই এই গেমটি খেলতে চেয়েছিলো।

ঢামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্টার ডাঃ মুক্তাদির ভুইয়া বলেন, " গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তাকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে সে এখানে ভর্তি আছে। তার পরিবারের কাছ থেকে জানতে পারি সে ব্লু হোয়েল গেমে আসক্ত হয়েছিলো। সেখান থেকে রক্ষা পেতে সে অতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ খেয়ে ফেলে। ঘুমের ঔষধের পার্শ প্রতিক্রিয়ায় তার কয়কটি সমস্য দেখা দিয়েছে। তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিলো। এখন তার অবস্থা অনেকটা ভালো। তাকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। আজকে তাকে মনোচিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

স্কুলছাত্রের মা জানান, তার দুই ছেলে-মেয়ের মধ্যে বড় সে। থাকে মিরপুর কাজীপাড়ায়। স্থানীয় একটি স্কুলের ৯ম শ্রেণিতে পড়তো সে। অনেক আগে থেকেই সে মোবাইল, কম্পিউটার চালাতো। খুব পারদর্শি ছিলো। সে ডার্ক ওয়েবে ঢুকতো জানতাম। তবে ব্লু হোয়োল খেলতো তা জানতাম না। গত ঈদের কিছুদিন পর থেকে বাবা-মা তার আচরনের পরিবর্তন দেখতে পায়।
শীর্ষনিউজ/হায়দার/এম