বুধবার, ১৮-অক্টোবর ২০১৭, ০৫:১০ অপরাহ্ন
  • জাতীয়
  • »
  • প্রধান বিচারপতি অসদাচরণ করেছেন কি না খতিয়ে দেখা প্রয়োজন: আইনমন্ত্রী

প্রধান বিচারপতি অসদাচরণ করেছেন কি না খতিয়ে দেখা প্রয়োজন: আইনমন্ত্রী

sheershanews24.com

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০১:৩৮ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা: ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা কোনো ‘অসদাচরণ করেছেন কি না তা খাতিয়ে দেখা প্রয়োজন’ বলে মনে করছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

রোববার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে ইতিহাস বিক্রিত হয়েছে। তবে এই রায় বাতিলের ফলে প্রধান বিচারপতি কোনো অসদাচরণ করেছেন কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

এর প্রমাণ পাওয়া গেলে ‘তার বিচারের ভার রাষ্ট্রপতির ওপর’ বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

এর আগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে ‘মিট দ্যা রিপোর্টার্সে’ এক বক্তৃতায় আনিসুল হক বলেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে প্রধান বিচারপতি যে রায় দিয়েছেন সেটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে।

তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনী ৭৯৯ পাতার একটি জাজমেন্ট। এই রায়ের রিভিউ করতে হলে সম্পূর্ণ জাজমেন্ট পড়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো জাস্টিফাইড করতে হবে। যা এক দুই দিনে হবে না। তার রায়ের বিরুদ্ধে সংবিধান অনুযায়ী আমরা সরাসরি এক্সপান্স করতে পরি না। এক্সপান্স করতে হলে রিভিউ এর মাধ্যমে এক্সপান্স করতে হয়। তবে এই রায় নিয়ে আমরা (সরকার) এখনো কোনও সিদ্ধান্ত নেইনি।

অনুষ্ঠানে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল প্রসঙ্গে আনিসুল হক বলেন, এখন তথ্য প্রযুক্তির যুগ। তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অনেকে সাইবার ক্রাইম করে থাকে। এ ধরনের অপরাধের সাথে যারা যুক্ত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য এই ধারা তৈরি করা হয়েছিল। আমি বুঝতে পারছি না এই ধারা নিয়ে আপনাদের কেন সমস্যা হচ্ছে? এই ধারার ফলে আপনারা যে সমস্যার সম্মুখিন হয়েছেন সে সমস্যারতো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছ। প্রধানমন্ত্রী তো বলেই দিয়েছেন সাংবাদিকদের ৫৭ ধারায় যেন কেউ হয়রানি না করেন।

সাংবাদিকদের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয় এমন আইন থাকবে না বলেও মিট দ্যা রিপোর্টার্সে জানান আইনমন্ত্রী।

সাংবাদিকদের দাবি নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা প্রসঙ্গে আনিসুল হক বলেন, আমি বুঝি না ব্যাপারটা কী? তবে অর্থমন্ত্রী যেটা বলেছেন সেটা ফেলে দেয়ার বিষয় নয়। উনি কোন এঙ্গেল থেকে কথাটা বলেছেন সেটা বুঝতে হবে।

এর আগে গত ৮ আগস্ট মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ডের দাবি ‘টোটালি রাবিশ, বোগাস’ বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

ওইদিন বিকেলে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন ‘নোয়াব’ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। ওই বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুও উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় অর্থমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, সাংবাদিকরা সরকারি কর্মচারীদের চেয়ে অধিক বেতন পান। এই কারণে তাদের এই ওয়েজবোর্ডের দাবি অযৌক্তিক।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরে চারশর মতো পত্রিকা আছে। এগুলো একবারে বোগাস। ২০টার মতো পত্রিকা থাকলে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন সম্ভব।

অর্থমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর সাংবাদিক সংগঠন ও সাংবাদিক নেতাদের পক্ষ থেকে এর কঠোর সমালোচনা করে নিন্দা জানানো হয়।

অর্থমন্ত্রীর ওই বক্তব্য প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি একথা কেন বলেছেন এ ব্যাপারে আমি তার সাথে কথা বলব।

মিট দ্যা রিপোর্টার্সে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন।

শীর্ষনিউজ/সাদেকুর/এইচএস