বৃহস্পতিবার, ১৯-এপ্রিল ২০১৮, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন
  • অফিস-আদালত
  • »
  • রায় না হওয়া পর্যন্ত শিশুটি থাকছে খালার কাছে

রায় না হওয়া পর্যন্ত শিশুটি থাকছে খালার কাছে

sheershanews24.com

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল, ২০১৮ ০৩:৪০ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা: ১৮ মাসের সেই শিশুকে রায় না হওয়া পর্যন্ত আপাতত খালার হেফাজতে রাখার আদেশ দিয়ে টাঙ্গাইল ‘ক’ অঞ্চলের ম্যাজিস্ট্রেটকে অব্যাহতি দিয়েছেন হাইকোর্ট।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তলবে হাজিরের পর সোমবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে শিশুর মায়ের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম, খালার পক্ষে আইনজীবী সুব্রত সাহা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষে আইনজীবী অজি উল্লাহ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
মামলা সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চান্দশী গ্রামের বিপুল দে ও জেবা রানী দম্পতির ঘর আলোকিত করে একটি সন্তানের জন্ম হয়। শিশুটির নাম রাখা হয় অংশুমান দে। শিশুটির বয়স যখন এক বছর তখন তার খালা-খালু তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর শিশুটির খালা ও খালু নিঃসন্তান দম্পতি হওয়ায় দুই তিন দিনের জন্য শিশু অংশুমানকে নিয়ে যায়। এরপর ওই শিশুর বাবা-মা তাদের সন্তান ফেরত চাইলে সন্তান না দিয়ে তাদের বাড়িতে আটকে রাখে।
এ অবস্থায় নিজ সন্তানকে ফেরত পেতে গত ১৬ জানুয়ারি টাঙ্গাইল ‘ক’ অঞ্চলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আবেদন করেন শিশুটির বাবা-মা। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঘাটাইল থাকার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয় আদালত বাড়ি তল্লাশির আদেশ দেন থানার ওসিকে। শিশুসহ ওই খালাকে হাজির করতে বলা হয়। এরপর ১৮ জানুয়ারি ওসি শিশু সন্তানসহ ওই খালাকে হাজির করে। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফেরত দেয়। এরপর ২১ মার্চ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে শিশুটিকে তার খালার হেফাজতে দেওয়ার আদেশ দেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এ আদেশটি চ্যালেঞ্জ করে শিশুটির বাবা-মা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত ম্যাজিস্ট্রেটকে তলব করে এ আদেশ দেন।
ওই আদেশ অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোমবার হাইকোর্টে হাজির হন। একইসঙ্গে শিশু অংশুমান দে’কে আদালতে হাজির করা হয়। উপস্থিত ছিলেন শিশুর মা জেবা রানি, খালা ও নানি।আদালতের আদেশের পর শ ম রেজাউল করিম বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী এখন শিশু অংশুমান আপাতত খালার হেফাজতে থাকবে। তবে তার মা মাঝে মধ্যে তার সন্তানকে দেখাশোনার সুযোগ পাবেন। মামলাটি এখন উপযুক্ত এখতিয়ার সম্পন্ন দেওয়ানি আদালতে যাবে। দেওয়ানি আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের ভিত্তিতে দত্তক বিষয়ে এই মামলায় রায় দেবেন। ওই রায় না হওয়া পর্যন্তই অংশুমান তার খালার কাছে থাকছে।
শিশুটির মা জেবা রানি দে’র করা এক আবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চান্দশী গ্রামের বিপুল দে ও জেবা রানি দম্পত্তির একমাত্র পুত্র সন্তান অংশুমান দে। শিশুটির বয়স যখন একবছর তখন তার খালা-খালু তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর শিশুটির খালা ও খালু নিঃসন্তান দম্পতি হওয়ায় দু’তিনদিনের জন্য শিশু অংশুমানকে নিয়ে যান। এরপর ওই শিশুর বাবা-মা তাদের সন্তান ফেরত চাইলে সন্তান না দিয়ে তাদের বাড়িতে আটকে রাখেন।এ অবস্থায় নিজ সন্তানকে ফেরত পেতে গত ১৬ জানুয়ারি টাঙ্গাইল ‘ক’ অঞ্চলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আবেদন করেন শিশুটির বাবা-মা।
শীর্ষনিউজ/মেহেদী