শনিবার, ১৬-ডিসেম্বর ২০১৭, ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন
  • রাজনীতি
  • »
  • ‘খালেদা জিয়া যাতে দেশে ফিরতে না পারেন সে জন্যই পরোয়ানা’

‘খালেদা জিয়া যাতে দেশে ফিরতে না পারেন সে জন্যই পরোয়ানা’

sheershanews24.com

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০৭:৩১ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যাতে দেশে আসতে না পারেন, সে জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এক সপ্তাহে তিন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপরি আইনবষিয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া।
বৃহস্পতিবার তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহে কুমিল্লায় পেট্রলবোমা নিক্ষেপ, মানহানি ও জিয়া চ্যারিটেবলসহ তিন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। এ গ্রেফতারি পরোয়ানার পেছনে তিনি সরকারের একতরফা নির্বাচন ও খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্য দেখছেন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী জানান, খালেদা জিয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় ভয় পান না। তিনি জনগণের জন্য রাজনীতি করেন। বিদেশে থেকে তিনি দেশে এসে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা মোকাবিলা করবেন।
আজ সকালে প্রথমে মানহানির অভিযোগে করা মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা মহানগর হাকিম নূর নবী। এর কিছুক্ষণ পরই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায়ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন পঞ্চম বিশেষ আদালতের বিচারক ড. আক্তারুজ্জামান।
এর আগে গত ৯ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নোয়াবাজার এলাকায় বাসে পেট্রলবোমা হামলার মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি  পরোয়ানা জারি করেন কুমিল্লার জেলা জজ জেসমিন আরা সুলতানা।
২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিক স্বীকৃত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটানোর অভিযোগে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে একটি মানহানির মামলা করেন।
ওই দিন ঢাকা মহানগর হাকিম রায়হানুল ইসলাম তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলা তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলায় খালেদা জিয়া এবং তাঁর স্বামী, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আসামি করা হয়।
চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি এম মশিউর রহমান খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন দাখিল করেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার নথি থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলায় খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।
কুমিল্লায় পেট্রলবোমা হামলা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চৌদ্দগ্রামের নোয়াবাজার এলাকায় ইউনিক পরিবহনের একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলায় আটজন নিহত হন। আহত হন আরো ২০ জন।
এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে প্রধান আসামি করে ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ওই থানায় মামলা করে পুলিশ। সেই মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় ছয় নেতাকে হুকুমের আসামি করা হয়।
চলতি বছরের ৬ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ৭৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম।
চিকিৎসার জন্য গত ১৫ জুলাই লন্ডনে যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর পর থেকে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেখানেই অবস্থান করছেন।
শীর্ষনিউজ২৪ ডটকম/ এনএমএম